জাতীয়

কওমি

কাঙ্খিত কওমি সনদের স্বীকৃতি আজ মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন শতাধিক আলেম-উলামা উপস্থিত থাকবেন।

গণভবনে উপস্থিত থাকবেন- হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক, হেফাজতে ইসলামের আমির ও বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (ঢাকা বেফাক) সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত তিনশতাধিক আলেমের মধ্যে বেফাকের পক্ষ থেকে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করবে ১৫০ জন। গওহরডাঙ্গা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি পীরে কামেল আল্লামা মুফতি রুহুল আমীনের নেতৃত্বে অন্য ৪ বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করবে ১৫০ জন।

অনুষ্ঠানে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বে যাবেন ১০ জন আলেম।

২৮ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশের ৬টি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছান। এরপর শুরু হয় সনদের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ। সবশেষে আজ আসছে ঘোষণা।

বিস্তারিত

আন্তর্জাতিক

কোরিয়া

কোরিয়া উপদ্বীপে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, যে কোনও ধরনের মার্কিন আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য তাদের ‘শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী’ প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-র বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রণতরী মোতায়েনের এ আগ্রাসী পদক্ষেপের নেওয়ায় যে কোনও ধ্বংসাত্মক পরিণতির জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। ’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনও পর্যায়ের যুদ্ধের জন্য উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত রয়েছে। ’

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সামরিক অনুশীলনকে কোরিয়া উপদ্বীপে আগ্রাসন বলেই বিবেচনা করে উত্তর কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়ে যখন আঞ্চলিক ও অন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন কোরীয় উপসাগরে রণতরী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দেশে পাঠানো কার্ল ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপ নামের ওই রণতরীতে রয়েছে একটি বিমানবাহী জাহাজসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, উত্তর কোরিয়ায় পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রণতরীটি এখন পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পারি দিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপের দিকে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে রণতরীটি কোরিয়ার দিকে যাচ্ছে।

এক বিবৃতিতে প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ‘উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত দায়িত্বহীন পারমানবিক পরীক্ষা চালানো ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে চলার মাধ্যমে যে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার জন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ’

৫ এপ্রিল জাপান সাগরে আবারও একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। এর আগে ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার চীন সীমান্তের নিকটবর্তী তংচ্যাং-রি অঞ্চল থেকে জাপান সাগরে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তখন দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্ভবত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম।

পারমাণবিক ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম চালানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাতিসংঘ বেশ কয়েকবার নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ওই কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি উত্তর কোরিয়া।

বিস্তারিত

উত্তরার খবর

পহেলা বৈশাখ

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আগামী শুক্রবার ১৪ এপ্রিল উদযাপিত হতে যাচ্ছে এই প্রাণের উৎসব। ভেদাভেদ ভুলে বাঙালি বরণ করবে ১৪২৪ বঙ্গাব্দকে। এই উৎসবকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজধানীতে।

বৈশাখকে সামনে রেখে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে শুরু করে রাজধানীর অভিজাত দোকানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। কেনাকাটায় ধুম লেগেছে ছোট-বড় বিপণিবিতানগুলোতেও। পরিবার পরিজনসহ নানা রঙের নতুন পোশাকে নিজেকে সাজাতে ভিড় বাড়ছে ক্রেতার। সর্বত্রই এখন বৈশাখী আমেজ।

নববর্ষ বরণে এখন শুধু পান্তা ভাত আর ইলিশ মাছ খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বাঙালি, এ সময় পুরো দেশ রঙিন সাজে সেজে ওঠার প্রস্তুতি নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন পোশাক কেনাকাটায় নগরবাসী এখন ব্যস্ত। ছোট-বড় সকলেরই পছন্দ এসে মিলে যায় বৈশাখ বরণে। নববর্ষের সাজে বাঙালির চিরায়ত সাজ থাকলেও প্রতি বছর স্টাইলে খানিকটা পরিবর্তন আসে। আর এই সুযোগে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি ডিজাইনের বৈশাখী পণ্য সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরাও।

সকলেরই পছন্দ লাল-সাদা রঙের পোশাক। তবে এবার লাল-সাদার পাশাপাশি মেজেন্ডা, মেরুন, কমলা, অফ হোয়াইট ও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করে পোশাকগুলোকে দেওয়া হয়েছে উৎসবের আমেজ। ক্রেতারাও ভিন্ন রঙের পোশাকে বৈশাখ বরণ করতে স্বাচ্ছ্যন্দেই আকৃষ্ট হচ্ছেন লাল-সাদাসহ বাহারি রঙের পোশাক কিনতে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা লাল-সাদার কম্বিনেশনে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি নিয়ে এসেছেন। এখানে কাতান, তাঁত, টাঙ্গাইল ও বুটিকস, সিল্ক, জামদানি, কোটাসহ নানা ধরনের বৈশাখের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। শাড়িগুলো মিলবে ৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।

কয়েকটি শপিংমলে দেখা যায়, পাঞ্জাবি, শাড়ি, কুর্তা, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও ছোটদের বাহারি রঙের পোশাকে সাজানো সব দোকান। সেই সঙ্গে রয়েছে লোকজ ঐহিত্যের ছাপ। তরুণীরা শাড়ি এবং সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন গহনা। পোশাকের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, ঢোল, মুখোশ ইত্যাদি। শপিংমল কিংবা মার্কেটের পাশাপাশি এসব দেশজ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে মেলা ও ফুটপাতে।


পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে লোকে যে কেবল নতুন কাপড়ই কিনছেন তা নয়, মুঠোফোনসহ নানা ধরনের ইলেকট্রনিকস সামগ্রীও বেচাকেনা হচ্ছে। এমনকি ঘরবাড়ি সাজানোর জন্যও অনেকে কেনাকাটা করছেন। ফলে বেচাকেনা জমে উঠেছে বিপণিবিতানগুলোতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবার পহেলা বৈশাখে লাল-সাদার কদর বেশি থাকে। তবে ফ্যাশনের পরিবর্তন ও ভিন্ন দেখার চিন্তাভাবনা থেকে তরুণীরা বর্তমানে বিভিন্ন রঙের পোশাককেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বৈশাখের কেনাকাটা করতে নিউমার্কেটে আসা রাইসা রফিক নামের বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বৈশাখ মানেই যেন নিজস্ব কোনো ফ্যাশন। সাদা এবং লালের আধিক্য রেখে যে কোনো পোশাকই ভাল লাগে।’ শাড়ির সঙ্গে কিছু অলংকার মিলিয়ে কেনার জন্য তিনি এসেছেন নিউমার্কেটে, এরপর লেইজ কিনতে যাবেন চন্দ্রিমায়। সব মিলিয়ে বৈশাখী উৎসবের আমেজ তিনি এখন থেকেই পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।

শ্যামলী থেকে আসা আশালতা বলেন, ‘প্রতি পহেলা বৈশাখেই আমি শাড়ি পরি। এবারো পরবো লাল-সাদা শাড়ি। সঙ্গে কাঁচের চুড়ি। কালেকশন দেখতে এসেছি, ভালই লাগছে। অনেক কালেকশন দেখছি মার্কেটে।’

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের শাড়ির ব্যবসায়ী শিপন হোসেন বলেন, ‘এপ্রিলের প্রথম থেকে বৈশাখের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। বেচা-কেনা খারাপ না। শাড়ি তো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিক্রি চলবে।’ গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি ভাল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিস্তারিত

বিনোদন

শাকিব খান

চিত্রনায়ক শাকিব খান জানালেন, সংবাদ সম্মেলন করছেন না তিনি। আজ মঙ্গলবার সকালে এই কথা জানালেন শাকিব খান। গতকাল সোমবার রাতে শাকিব জানিয়েছিলেন, বিয়ে-সন্তানসহ নানা বিষয়ে কথা বলবেন তিনি। এ জন্য রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। শাকিব বলেন, প্রতিপক্ষ আমার পেছনে বেশ জোরেশোরে লেগেছে। আমি এ নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাই না। যা হওয়ার, তা হবে।

প্রায় এক বছর আড়ালে থাকার পর গতকাল বিকেলে নিউজ টোয়েন্টিফোরের সরাসরি অনুষ্ঠানে হাজির হন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সঙ্গে ছিল ছেলে আব্রাহাম খান জয়। অনুষ্ঠানে অপু বলেন, তাঁর সন্তানের বাবা চিত্রনায়ক শাকিব খান। শাকিবের সঙ্গে ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ে হয়েছে তাঁর। তাঁদের ছেলের জন্ম হয় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর।

টেলিভিশনের পুরো অনুষ্ঠানে অপু শুধু শাকিবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েই কথা বলেন। অপু বিশ্বাস বলেন, আমাকে প্রতিনিয়ত সে (শাকিব) ঠকিয়ে গেছে। আমি তো তাকে ঠকাইনি। আমাকে সে বিয়ে করেছে। আমাকে বলেছে, অপু, সব লুকায় রাখো। আমি প্রতিটা মুহূর্তে লুকায় রাখছি। আমি প্রেগন্যান্ট, আমাকে বলছে লুকায়ে রাখো। কাঁদতে কাঁদতে অপু বলেন, আমি সবকিছু জীবন দিয়ে আগলে রাখছি। তার বিনিময়ে ছোট্ট একটু সম্মান চাইছি।

পরে শাকিব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি অপুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে ও সন্তান আব্রাহামের কথা স্বীকার করেন। শাকিব বলেন, আব্রাহামের দায়িত্ব আমি নিয়ে যাব। সে আমার সন্তান। সারা জীবন তার দায়িত্ব আমি নিয়ে যাব। টেলিভিশন চ্যানেলে হাজির হয়ে সরাসরি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অপু বিয়ে আর সন্তানের কথা বলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান শাকিব। তিনি বলেন, সন্তানের দায়িত্ব নেবেন, কিন্তু অপুর নয়। অপুর টিভি সাক্ষাৎকারকে একটি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন শাকিব।

 

বিস্তারিত

খেলাধুলা

মাশরাফি

টি-টোয়েন্টি থেকে ইতোমধ্যেই অবসর নিয়ে ফেলেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ঢাকায় আসার পর এতদিন চুপ ছিলেন। কিছুই বলেননি কোনো মিডিয়ায়। তবে এবার মুখোমুখি হয়েছেন ইএসপিএন ক্রিকইনফোর। সেখানে মাশরাফি জানিয়েছেন, তিনি আরও দীর্ঘসময় ওয়ানডে খেলে যেতে চান। অন্তত যতদিন পারেন, ততদিন। একইসঙ্গে কথা বলেছেন মাঠের বাইরের আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে এবং নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে।

প্রশ্ন: যদিও আপনি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে, এখনও ওয়ানডে ক্রিকেটে সামনের মাসগুলোতে আপনার বড় একটি ভূমিকা থাকবে...।

মাশরাফি : আমি সত্যিই ওয়ানডে ক্রিকেট উপভোগ করছি। একই সঙ্গে বলবো, ওয়ানডের তুলনায় টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে আমরা একটু মন্থর গতিতেই এগুচ্ছি। যেখানে ওয়ানডেতে আমরা ১০ নম্বর (আইসিসি র‌্যাংকিং) থেকে দ্রুত ৭ নম্বর অবস্থানে পৌঁছে গেছি। আমরা ইতোমধ্যে অনেক বড় একটি ধাপ অতিক্রম করে ফেলেছি। এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র কিছু খেলোয়াড়ের দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে।

আমি ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি এবং চাই যতদিন পারা যায় ততদিন খেলে যেতে চাই। তবে এ জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা কঠিন। বিশেষ করে বাংলাদেশে। আমি চাই খেলা চালিয়ে যেতে; কিন্তু আমি যদি খারাপ সময় অতিবাহিত করি এবং আমার ওপর যদি চাপ তৈরি হতে থাকে, তাহলে তো অবশ্যই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে হবে।

প্রশ্ন : গত ইংল্যান্ড সফর পর্যন্ত কার্যকর একটি সময় পার করে এসেছেন। এখন কি ২০১৫ সাল থেকে ভিন্ন কোনো কিছু গ্রহণ করবেন?

মাশরাফি : ২০১৫ বিশ্বকাপের পর সত্যি বলতে, আমি নতুন বলে বোলিং করিনি। সম্ভবত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটা-দুটা ম্যাচে করেছি। খুব অল্পবয়সে যখন আমার ক্যারিয়ারের শুরু, তখন থেকে সবসময়ই আমি বোলিং ওপেন করতাম। সুতরাং, এ বিষয়টার ওপরই নতুন বলে আসলে আমার স্কিল গড়ে উঠেছে। যেকোনো একজন বোলারের স্কিল গড়ে ওঠে মূলত একটা পয়েন্টকে ভিত্তি করেই। মোস্তাফিজ যেমন নতুন বলের তুলনায় আধা-নতুন বলে খুব ভালো। কারণটা হচ্ছে তার কাটার। তাসকিন আর রুবেল ১০ ওভার পরে অনেক বেশি কার্যকর, যখন তারা বাইরে দু’জন অতিরিক্ত ফিল্ডার পেয়ে যায়। সৈয়দ রাসেল, তাপস বৈশ্য এবং মঞ্জুরুল ইসলামরাও সবাই ছিল নতুন বলে ভালো। একই ব্যাপার আমার ক্ষেত্রেও।

আমি হয়তো পুরনো বলে নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছি। যদিও এটা প্রথম দিকে আমার জন্য কঠিন হয়েছে। এই ভূমিকাটাও আমি উপভোগ করতে শুরু করেছিলাম এবং দলও এ সময়ে এসে সাফল্য পেতে শুরু করেছিল। আমি ভাবলাম, এটাই তো ভালো। ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মোস্তাফিজ শুরুতেই উইকেট পেতে শুরু করলো। এরপর যখন সে ইনজুরিতে পড়লো, আমি আবারও বোলিং ওপেনিংয়ে ফিরে আসলাম। আমার সারাজীবনে এটাই করে গেছি। গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে যখন আমি নতুন বলে বোলিং শুরু করলাম, তখন আগের ছন্দটাই ফিরে পেলাম। যেখানে শেষ করেছি, সেখান থেকেই শুরু করলাম।

প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আপনার প্রথম স্পেলই বলতে গেলে বাংলাদেশের পক্ষে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। আসলে কিভাবে আপনি শুরুতে এভাবে ব্রেক থ্রু এনে দেয়ার দক্ষতা অর্জন করেছেন?

মাশরাফি: আসলে এটা নির্ভর করে বোলারের আত্মবিশ্বাস এবং সামর্থ্যের ওপর। মানুষ তামিম ইকবালকে অনেকসময় দোষারোপ করে, যদি সে দ্রুত আউট হয়ে যায়, রান করতে না পারে; কিন্তু মনে রাখতে হবে, সে ওয়ানডেতে শুরুতে দুটি নতুন বলের মোকাবেলা করে। এ চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করার সামর্থ্য তার আছে বলেই সে এটা করে যাচ্ছে। আমার ক্ষেত্রে আমি বলবো, আফগানিস্তান সিরিজের সময় আগের বলে শেহজাদ ছক্কা মেরে দিল। পরের বলেই কট বিহাইন্ড করে তার উইকেট তুলে নিলাম। আমার আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। ওই সময় আমি অনুভব করতে শুরু করলাম যে, তাহলে আমিই সেরা এবং এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও আমি ব্রেক থ্রু এনে দিতে পেরেছি।

সবচেয়ে বড় কথা একজন অধিনায়ক এবং সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে এটা সাধারণ বিষয় যে, আমাকে অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এটা আমি গ্রহণ করি এবং একে আমি উপভোগও করি বেশ।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড হলো একেবারে প্রথম ওভার কিংবা প্রথম বল থেকেই ওপেনাররা খুব আক্রমণাত্মক খেলেন। একজন বোলারের জন্য এমন পরিস্থিতিতে নিজের ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস ধরে রাখা কতটা কঠিন?

মাশরাফি : আসলে আমার আত্মবিশ্বাস এসেছে মূলত দীর্ঘ ক্যারিয়ার থেকে, যখন থেকে আমি খেলা শুরু করেছি, তখন থেকেই। আমি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি, তখন মনে করতাম, খুব ভয়ঙ্কর কোনো ওপেনার তো সম্ভবত এখন আর নেই। অথচ প্রতিটি দলেই ছিল বিখ্যাত সব ওপেনিং ব্যাটসম্যান। ভারতের ছিল গৌতম গম্ভীর, বিরেন্দর শেবাগ, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথিউ হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়সুরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার হার্সেল গিবস এবং গ্রায়েম স্মিথ। তবে বর্তমান সময়ের ওপেনাররা টেকনিক্যালি খুব ভালোমানের নয়। এ কারণে আমার কাজটা সহজ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ড্রেসিং রুমে কোর্টনি ওয়ালশের উপস্থিতি আপনার জন্য ভিন্ন কিছু। তাহলে কি আপনি আপনার অ্যাপ্রোচে ছোট কোনো পরিবর্তনও এনেছেন তার কাছ থেকে?

মাশরাফি: আমি আমার অ্যাকশনে কখনোই বড় কোনো টেকনিক্যাল পরিবর্তন আনিনি। কখনও আত্মবিশ্বাস কমে গেলে আমি সময় নিয়েছি। তবে আমার কখনোই তেমন বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি। কোর্টনি ওয়ালশ আসার সময় কাকতালীয়ভাবে আমিও নতুন বলে বোলিং শুরু করেছিলাম। তিনি আমাকে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সহায়তা করেছেন।

তিনি তার নিজস্ব ভঙ্গিতে একজন বোলারকে কার্যকর করে তোলার চেষ্টা করছেন। তিনি একজন কিংবদন্তি। সুতরাং, যদি আপনি একইবিষয় নিয়ে তার সঙ্গে একের পর এক আলোচনা করে যাচ্ছেন, তখন তিনি এমন কিছু বলবেন, যেটা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে। এটা আপনাকে আপনার চিন্তার অন্য জগতেও নিয়ে যেতে পারে। আমি সবসময় তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তাকে অনেক প্রশ্ন করি; কিন্তু আমি জানি, সাফল্য পুরোপুরিই আমার আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল, কোনো বড় পরিবর্তনের মধ্যে নয়।

গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের সময় তিনি আমাকে বললেন, আজ পাঁচ উইকেট নিতে হবে। আমি হাসিমুখে মাঠে চলে গেলাম এবং ম্যাচ খেলতে গিয়ে পেলাম চার উইকেট। এরপর যখন ড্রেসিংরুমে ফিরে এলাম তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমার কথা রাখোনি, এক উইকেট কম নিয়ে এসেছ!

প্রশ্ন: আপনার বোলিংয়ের এমন একটা পয়েন্ট বলুন, যেটা আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়।

মাশরাফি : উইকেট সবসময়ই আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে যায়। তবে প্রথম বল সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রথম বলকে আপনি যেখানে বল ফেলতে চান সেখানে যদি ফেলেন, তাহলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। এটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনিচ্ছাকৃতভাবে ইনসুইং কিংবা আউট সুইংয়ের মধ্যেও অনেক পার্থক্য থাকে, যখন আপনি ইচ্ছা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারি দিতে পারবেন। আপনি চাইলে জেনে-বুঝে এটা দিতে পারেন। তখন উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বলে ইনসুইঙ্গার কিংবা আউটসুইঙ্গার হয়ে যায়, তখন সেটা ব্যাটসম্যানের জন্যও অনেকটা অসুবিধাজনক অবস্থায় চলে যায়। তখন তারা বুঝতে পারে না, বলটাতে আসলে কী হতে যাচ্ছে।

আমার ক্ষেত্রে আমি বলবো, যদি প্রথম বলটা অফ স্ট্যাম্পের ওপর রাখতে পারি, ব্যাটসম্যান বাম হাতি কিংবা ডান হাতি যাই হোক, তাহলে আমি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। এখানে ব্যাটসম্যান বলটাকে ডিফেন্স করলো নাকি অন ড্রাইভ করলো সেটা কোনো ব্যাপার নয়। যদি এটাতে বাউন্ডারি হয়, তখন হয়তো খানিক্ষণের জন্য মন খারাপ হয়, তবে আত্মবিশ্বাস হারাই না। কারণ, বলটা যেখানে চেয়েছি সেখানে ফেলতে পেরেছি। এ কারণে আমি মনে করি প্রথম বলটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘদিনের সমস্যা এটা যে- বোলাররা একটি উইকেট পেলে পরের বলটিই করে বসে খুব বাজে। এ সমস্যা নিয়ে কাজ করার বিষয়ে কোন চিন্তা কি আছে আপনার মাথায়?

মাশরাফি: আমি মনেকরি অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা কমে আসবে। আমাদের হাতে প্রায় অনভিজ্ঞ একটি বোলিং ইউনিট। মোস্তাফিজুর হয়তো খুব অল্পসময়ের মধ্যে অনেক সাফল্য পেয়ে গেছে। এটাকে ধরে রাখার এবং তার সাফল্যের মাত্রাটা বাড়িয়ে নেয়ার দায়িত্ব এখন তার কাছে। প্রতিটি ম্যাচেই পাঁচ উইকেট করে নিক, এমনটাও আপনি তার কাছে আশা করতে পারেন না। কারণ, প্রতিটি প্রতিপক্ষই এখন তাকে নিয়ে অনেক বেশি গবেষণা করে। তারা অনুভব করে মোস্তাফিজকে যদি উইকেট নেয়া থেকে বিরত রাখা যায়, তাহলে আমাদের উইকেট নেয়ার ক্ষমতা অনেকটা কমে গেলো। আমার বিশ্বাস এই বোলাররা, মোস্তাফিজ, তাসকিন এবং রুবেল- অভিজ্ঞতা বাড়ার পাশাপাশি আরও অনেক পরিণত হবে।

বাংলাদেশ দল এখন রয়েছে সঠিক কার্যকরি পরিষদের হাতে। যাদের মধ্যে রয়েছেন কোচিং স্টাফরাও। তারা ক্রিকেটারদের সঠিক পথে পরিচালনা করছেন। তাদেরকে এসব টেকনিক্যাল পয়েন্টগুলো নিয়েও ভাবতে হবে। আমার মনে হয় না, এসব ছোট-খাট বিষয়গুলো দীর্ঘদিন থাকবে। আমাদেরকে এগুলো দ্রুত শোধরানো দরকার।

প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কে?

মাশরাফি: এটা সম্ভবত মেহেদী হাসান মিরাজ। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়েছে এই সফরে। সবেচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো একজন মানুষ হিসেবে তার ইতিবাচক মনোভাব। এটা আমাকে খুব অবাক করেছে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে যখন আমি (২৬তম ওভারে) ব্যাট করতে নেমেছি, তখন আমি তাকে বললাম ৪১তম ওভার পর্যন্ত টিকে থাকতে। কারণ, আমরা খুব ভালো অবস্থানে ছিলাম না। আমরা অনেকগুলো উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম। যখন একটি ওভার মেডেন খেলে ফেললো, সে আমার কাছে আসলো এবং বললো, এভাবে খেলতে পারবে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কেন? সে বললো, আমরা হারবো এই ম্যাচে। সেটা দুই রানে হোক আর ১৫০ রানে হোক। ‍সুতরাং, আমাদেরকে আরও ইতিবাচক খেলা উচিৎ। এটা হয়তো আমাদের সামনে জয়ের একটা সুযোগও তৈরি করে দিতে পারে।

পরের ওভারে আমি দুটি বাউন্ডারি মারলাম। এরপর সে আমার কাছে আসলো এবং বললো- এটাই আমাদের খেলা। এভাবেই আমরা খেলবো। আমরা ম্যাচটা হেরেছি সত্য; কিন্তু তার ইতিবাচক অবস্থান আমার খুব ভালো লেগেছে।

পরের দিন রাতে সে আমাদের সামনে কিছু অভিনয় করে দেখাল। অনেকটা ছোটবেলায় সে যেভাবে করতো, তেমনই। এটা ছিল খুবই মজার; কিন্তু আমরা অন্যরা এটা করে দেখাতে পারলাম না। এটা ছিল মাঠের বাইরের ব্যাপার। তবে এখানেও দেখলাম তাকে সে খুব আত্মবিশ্বাসী। আমার বিশ্বাস- এ বিষয়টা তার খেলায়ও বেশ প্রভাব বিস্তার করবে।

প্রশ্ন: গল টেস্টের পর বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এসব কথা-বার্তায় যোগ হয়েছে টি-টোয়েন্টিতে আপনার অবস্থানের বিষয়টিও। আপনি এই ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের কথাবার্তা আপনাকে কতটা প্রভাবিত করেছে?

মাশরাফি : পৃথিবীর সব মানুষই অন্য মানুষের কিছু কথা নেয়, কিছু কথা ছাড়ে। বিষয় হচ্ছে কে কতটুকু নিল বা ছাড়ল। কেউ ইতিবাচক কথা বেশি নেয়, কেউ নেতিবাচক বিষয় বেশি নেয়। এটা ঠিক, মানুষ যখন নেতিবাচক কিছু বলে তখন সেটা আমার ভেতরেও প্রবেশ করে। তবে আমি বিশ্বাস করি, দিন শেষে সিদ্ধান্তটা আমারই। মাঠের পারফর‌ম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই সব কিছু হবে। কারও কথার ওপর ভিত্তি করে নেতিবাচক মনোভাব চলে আসাটা আমি বিশ্বাস করি না। হ্যাঁ, সে রকম কিছু হলে মানসিক চাপ একটা থাকেই। আমার কথা বলছি না। যার ক্ষেত্রেই হোক, মানসিক চাপ থাকে। তখন আপনিও বুঝবেন মানসিক চাপ তৈরি করে কেউ আপনার বিরুদ্ধে কোনো ক্ষেত্র তৈরি করছে কি না। নাকি আপনি আসলেই খারাপ কিছু করছেন।

বিস্তারিত

বিচিত্র খবর

হিজরা

প্রতিটি মানুষই নারী-পুরুষ দুই ভাগে বিভক্ত। তবে কখনো কখনো মাতা-পিতার জিনঘটিত বা হরমোনজনিত সমস্যার কারণে সন্তান হিজড়া হয়। একজন সুস্থ মানুষের সঙ্গে কিছু বৈশিষ্ট্যের গরমিল ছাড়া তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তার পরও তারা চরমভাবে অবহেলিত। মানুষ হয়েও যেন মানুষ না, এমনকি পরিবারের কাছেও অগ্রহণযোগ্য। রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেলেও নাগরিক সুবিধার বিন্দুমাত্র পায় না! বেঁচে থাকার জন্য করতে হয় নিরন্তর সংগ্রাম। ভারী মেকআপের আড়ালে পোষে এক পাহাড়সম দুঃখ! হিজড়া জনগোষ্ঠীর নানা দিক নিয়ে লিখেছেন কবীর আলমগীর

পুরান ঢাকার শ্যামপুরের এক বনেদি পরিবারে জন্ম গৌতম বণিকের। মা-বাবার আদরের সন্তান। স্কুলে যাওয়া, বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বোনদের সঙ্গে হাসি-খুশিতেই কাটছিল তার কৈশোরজীবন। একসময় বয়স বাড়ে গৌতমের। কিন্তু যতই দিন যায় সে ঘরকুনো স্বভাবের হয়ে ওঠে। অন্য ভাইয়েরা খেলতে যায় মাঠে, নদীর ধারে; কেবল গৌতমের জীবনটা কেমন যেন আড়ষ্ট হয়ে যায়। সে তার ভেতরে ভেতরে ঘটে যাওয়া এক পরিবর্তন সঙ্গে নিয়ে বেড়ে ওঠে। সে সাজতে পছন্দ করে, রান্না করতে পছন্দ করে; পুরুষরূপী শরীরের আড়ালে এক নারীর স্বভাব নিয়ে কাটায় দিন। যা মেনে নিতে পারে না তার ভাইয়েরা। চলে শাসন, বারণ, এমনকি শারীরিক নির্যাতন। কেবল ঘরের ভেতর নির্যাতন নয়, বাইরে থেকেও আসে আঘাত, ‘তুই এমন কেন? ছেলে হয়ে মেয়ের মতো আচরণ করিস? তুই হিজড়া, তোর মুখ দেখাও পাপ!’

সময় কাটে নানা রকম গঞ্জনা সয়ে। আর এভাবেই নানা বঞ্চনা আর অবহেলার মধ্য দিয়েই ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেয় গৌতম। মেয়েসুলভ স্বভাব দেখে একদিন গৌতমের এক ভাই বলেন, ‘তোর জন্য আমাদের মানসম্মান চলে যাচ্ছে। তুই কি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারিস না?’ গৌতম বলে, ‘কেন যাব। আমি তো চুরি করি না, খারাপ কিছু করি না। ’ ভাইয়ের জবাব—‘তুই চোরের থেকেও খারাপ, তুই হিজড়া। ’ এভাবেই নিজের কথাগুলো বলছিলেন একসময়ের গৌতম বণিক থেকে আজকের অনন্যা বণিক। শৈশবের স্মৃতিচারণা করে অনন্যা বলেন, ‘বুঝতে পারলাম, আমার কারণে আমার পরিবার অশান্তিতে ভুগছে। মাকে নানা কথা শুনতে হচ্ছে। একদিন চিন্তা করলাম, মাকে মুক্তি দেব, পরিবারের সদস্যদের মুক্তি দেব। তাই সত্যিই একদিন বেরিয়ে পড়ি রাস্তায়। ’

ঢাকার মধ্য বাড্ডার আরেকজন চৈতি। তিনি তাঁর স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ওই বয়সে দেখা যায় আমি ছেলে। কিন্তু মেয়েদের জিনিসের জন্য কান্নাকাটি করতাম। মেয়েদের জিনিস দিয়ে নিজেকে সাজাতাম। দেহ পুরুষ আর অন্তর নারীদের। ’ প্রাথমিকে লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন জানিয়ে চৈতি বলেন, “ক্লাস ফোরে ওঠার পর থেকে রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে। এইচএসসিতে ভীষণ মানসিক বিপর্যয়ে পড়ি। সবাই বলত—‘তুমি তো ছেলে, তুমি কেন মেয়েদের মতো করে চলবা, কাপড় পরবা। ’ হাতে নেইলপলিশ মেখে স্কুলে গিয়েছি, ম্যাডাম বেত দিয়ে পেটাতেন। বলতেন, ‘তুমি না ছেলে মানুষ, তুমি এ রকম করছ কেন। ’ তখন রাগ করে তিন মাসের জন্য অন্য জায়গায় চলে যাই। পরে মা আমাকে নিয়ে আসেন। ” এর কিছুদিন পর চৈতি বুঝতে পারেন, তিনি পরিবারে শুধু এক অবাঞ্ছিত সদস্য। একদিন রাজবাড়ী থেকে চলে আসেন ঢাকায়, ওঠেন এক গুরু মায়ের কাছে।

গুরু-শিষ্যের পরম্পরা

পরিবার ছেড়ে যে হিজড়ারা আসেন, তাঁদের বেশির ভাগই আশ্রয় নেন গুরু মা অথবা বাবার কাছে। কেবল একজন নয়, একই আশ্রয়ে থাকেন ১২-১৩ জন, এমনকি ৫০-৬০ জনও। পুরো ঢাকা শহরে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে প্রায় ৫০ জন গুরু। রাত হলে তাঁরা গুরুর আশ্রয়ে ফিরে যান, সকাল হলে বেরিয়ে পড়েন জীবিকার তাগিদে। হিজড়াদের কেউ গান করেন, নাচ করেন, কেউ ছেলে নাচান, কেউ বাজারে, ফুটপাতে কিংবা বাসের যাত্রীদের কাছে উপার্জনের জন্য হাত পাতেন। নিজের একসময়ের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সিনিয়র লিয়াজোঁ অফিসার অনন্যা বণিক বলেন, ‘আমাদের গুরুর নাম বকুল হাজি। ওই জায়গায় আমরা ১৩-১৪ জন থাকতাম। শুরুর দিকে নতুন হিজড়ারা ভালো জীবন যাপন করতে পারতাম না। কেউ কাপড় ধুতাম, একজন থালাবাসন মাজতাম, আবার সকাল ৯টার দিকে বেরিয়ে পড়তাম। ’ তবে সব গুরু সমান নন, কেউ কেউ খারাপ আচরণও করেন। ঠিকমতো গুরুর আশ্রয়ে খাবার পাওয়া যায় না। হিজড়াদের উপার্জনের বেশির ভাগ টাকা চলে যায় গুরুর পকেটে।

আনন্দবাজার বস্তিতে থাকা রুকসানা বলেন, ‘সারা দিনে যা ইনকাম হয়, তার পুরো টাকা আমরা গুরুর হাতে তুলে দিই। গুরুকে মান্য করি, গুরু আমাদের আশ্রয় দেন; সুতরাং তাঁর অসন্তুষ্টি হয় এমন কোনো কাজ করি না। তবে কেউ কেউ খারাপ ব্যবহারও করে। ধরেন, ১০০ টাকা উপার্জন হলে গুরু রেখে দেন ৬০ টাকা। বাকি ৪০ শতাংশ বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়। বয়সভেদে ১০০ টাকার মধ্যে কেউ পায় ২০ টাকা, কেউ পায় ১৫ টাকা আবার কেউ পায় তারও অনেক কম। ’ গুরু যতই খারাপ ব্যবহার করুক না কেন, তবু রয়ে যেতে হয়। কারণ গুরুই হলো তাদের আদর্শিক আশ্রয়। গুরুর সব কিছু মেনে নিয়েই তাদের থাকতে হয়। মতিঝিলে বসবাসকারী সুইটি হিজড়া বলেন, ‘কোথায় যাব? আমরা কী করব? আমাদের ফিরে যাওয়ার তো কোনো পথ নেই। তাই গুরুকে ছেড়ে চলে আসা সম্ভব না। ’

অবহেলার জীবন

বাংলাদেশ সরকারের হিসাব মতে, সারা দেশে মোট হিজড়ার সংখ্যা ১০ হাজার। তবে বেসরকারি হিসাবে অন্তত এক লাখ। এর মধ্যে শুধু ঢাকায়ই রয়েছে পাঁচ-ছয় হাজার। ঢাকায় বসবাসকারী এ জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই বেকার, এদের নির্দিষ্ট কোনো উপার্জনমাধ্যম নেই। এরা মানুষের কাছে হাত পাতে, কেউ বা নাচ-গান করে, কেউ নবজাতক নাচিয়ে টাকা উপার্জন করে। কেবল বেকারত্ব আর অনিশ্চিত জীবনই নয়, রয়েছে তাদের প্রতি সামাজিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবও। হিজড়াদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে অনন্যা বণিক বলেন, ‘আমার মতো চাকরি কতজন করতে পারছেন। সুযোগ-সুবিধার অভাবে সবাই তো লেখাপড়া করার সুযোগই পাননি। যাঁদের জীবিকা নেই তাঁদের অবস্থা আরো শোচনীয়। ’ দয়াগঞ্জের বাসিন্দা আনুরী বলেন, ‘পথে-ঘাটে বের হলেই মানুষ আমাদের নিয়ে কানাঘুষা করে, নানা কথা বলে, কুপ্রস্তাব দেয়। আমাদের জন্য তো বস্তি বরাদ্দ। ভালো বাসা ভাড়া নিতে গেলেও বাড়ির মালিক দিতে চান না। দিতে চাইলেও ডাবল ভাড়া দাবি করেন। ’ মালিবাগের পুষ্পিতা বলেন, ‘আমরা ভিক্ষা করতে গেলেও মানুষ আগের মতো সহায়তা করে না। আবার ধরেন আমরা বাসে উঠলাম। পাশের সিট ফাঁকা। কিন্তু মানুষ আমাদের সঙ্গে বসবে না। রাস্তায় অনেক যন্ত্রণা। মানুষ ঘৃণার চোখে তাকায়। তুই তুই করে কথা বলে। ঠাট্টা-তামাশা করে। ’

নীরবে কাঁদে মন

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও কখনো কখনো তাঁরা পরিবারের সুখের মুহূর্তগুলো অনুভব করেন। তাঁরাও সংসার করতে চান, ঘর বাঁধতে চান ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে। ধরা যাক শাম্মীর কথা। কোনো একসময় সশস্ত্র বাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে শাম্মীর পরিচয় হয়। নতুন পরিচিত মানুষের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একসময় ছেলেটির প্রেমে পড়েন শাম্মী। তিনি জানান, তিনি বাইরে যা ভেতরে এক অন্য মানুষ। তবু ওই ছেলেটি শাম্মীকে নিয়ে সংসার করতে চান। শেষ পর্যন্ত পরিবারের আপত্তির মুখে শাম্মীর জীবন থেকে ছেলেটি সরে যান। তেজতুরী বাজারের ছলনা হিজড়া ভালোবাসার নামে শুধু প্রতারিতই হয়েছেন। দীর্ঘ সময় প্রেম করেছেন এক ছেলের সঙ্গে। একপর্যায়ে তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। ভালোবাসার অভিনয় করে একসময় ওই ছেলেটা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। ‘অপরূপ বাংলাদেশ’ নামে তেজতুরী বাজারের একটি সমবায় সমিতির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের সমিতিতে অনেক হিজড়া টাকা জমা করেন। কিন্তু অনেকে তাঁদের সঙ্গে বিয়ের অভিনয় করে কিছুদিন একসঙ্গে থেকে সব টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ রকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ’

বিড়ম্বনায় পথের মানুষ

‘হিজড়ারা সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবার থেকে বিতাড়িত—এই কষ্টের সঙ্গে সমবেদনা জানাতে হয়। কিন্তু এঁদের কেউ কেউ পথে-ঘাটে বিরূপ আচরণ করেন। ফলে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়’—এমন কথা জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের ছাত্র মো. রেজাউল করিম। ঢাকার বনানীতে বেসরকারি এক কম্পানিতে চাকরি করেন মো. এহতেশাম কাজী। তিনি বলেন, ‘একদিন বাসে উঠে কয়েকজন হিজড়া ভিক্ষা চাওয়া শুরু করলেন। ১০ টাকা দিতে চাইলাম। জোর করে মানিব্যাগ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে গেল। ’ হিজড়াদের আচরণ এ রকম কেন? জানতে চাইলে শাম্মী বলেন, ‘আমাদের তো সংসার নেই, পরিবার নেই। আমরা নিপীড়িত-লাঞ্ছিত। ভিক্ষা ছাড়া আমাদের উপার্জনের কোনো পথ নেই। নানা বঞ্চনার মধ্যে থাকতে থাকতে কখনো কখনো মেজাজ ঠিক রাখা যায় না। এ কারণে হিজড়াদের কেউ কেউ রাগ দেখায়। কেউ যদি আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন, আমরা তাঁদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি। আমরাও তো মানুষ। ’ এ ছাড়া জানা গেছে—ভালো মানুষকে হিজড়া বানিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। একাধিক অসাধুচক্র হিজড়াদের নিয়ে ব্যবসা করে। তারা প্রতারণার মাধ্যমে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়ে সংগ্রহ করে। এক শ্রেণির অসাধু ডাক্তারের সহায়তায় যৌনাঙ্গ কেটে ওষুধের মাধ্যমে পরিণত করা হয় হিজড়ায়। পরে চাঁদাবাজি, পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। পেটের দায়ে বা প্রলোভনে পড়ে কেউ যেন এমন পথে পা না বাড়ায়, তার জন্য যেমন দরকার সামাজিক সচেতনতা, তেমনি দরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বিদ্যমান প্রতারকচক্রগুলোকে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য কঠোর পদক্ষেপও জরুরি।

স্বীকৃতির জটিলতা

২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। খবরটি এই সম্প্রদায়ের মধ্যে সুখের খবর এনেছিল। এ কারণে তাঁরা মূলধারার জনস্রোতে একাকার হতে পারবেন। তাঁরা সমাজের সুযোগ-সুবিধা পাবেন, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির লিয়াজোঁ অফিসার অনন্যা বণিকের ভাষ্য, ‘স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর এ রকম একটি স্বীকৃতি আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যমান সমাজ কাঠামোর গুণগত পরিবর্তন না হলে এই স্বীকৃতি অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর খুব বেশি উপকার বয়ে আনবে না। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আমাদের মাসে ৬০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়, যা জীবনযাপনের ব্যয়ের তুলনায় কিছুই না। এ খাতে সরকারের বাজেট আরো বাড়ানো দরকার। তা না হলে এই জনগোষ্ঠীর কোনো উন্নয়ন হবে না। ’ যাত্রাবাড়ীর লারা বলেন, ‘কেবল স্বীকৃতি দিলেই হবে না, স্বীকৃতির বিষয়টি বাস্তবায়নও জরুরি। ’ বাঁধন হিজড়া সংঘের নির্বাহী পরিচালক পিংকি শিকদার বলেন, ‘এই জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। এ ছাড়া কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। তাহলে এই জনগোষ্ঠীর কেউই আর বেকার থাকবে না। ’

তবু আশায় বাঁধি বুক

পথে চলতে নানা কটু কথা শুনতে হয়। পরিবারেও এদের ঠাঁই নেই। রাষ্ট্র থেকে যে সুযোগ-সুবিধা তাদের কাঙ্ক্ষিত তা-ও নেই। তবু এরা আশায় বুক বাঁধে। অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য বাকি জীবন কাটাতে চান সুখে। তাঁদের স্বপ্ন সমাজব্যবস্থা একদিন না একদিন বদলাবেই। বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম হিরু বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষদের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। এরা যাতে সমাজের মূলধারার সঙ্গে মিশতে পারে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা আরো জোরালো করতে হবে। তাহলে কেবল এই জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। ’ হিজড়াদের সংগঠন পদ্মকুঁড়ির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারি বলেন, ‘একদিন জীবনের অন্ধকার ঘুচবেই। আলো আসবেই। আর সেই আলোয় আলোকিত হতে চায় হিজড়াদের জীবন। এখন কেবল সেই আলোর অপেক্ষা। ’

বিস্তারিত

ছবিঘর

medialinks MAMS image
image



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
উত্তরা নিউজ ২০১৩-২০১৭