soudia

বাংলাদেশে একটি ডিএপি সার কারখানা, জ্বালানি তেল, বিদ্যুেকন্দ্র, এমনকি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা। সফরে আসা সৌদি ব্যবসায়ীদের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত মতবিনিময়কালে তাঁরা এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এদিকে আজ বুধবার গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিনিয়োগ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করবেন সৌদি ব্যবসায়ীরা।

সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলে ধরেন।

সরকার ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে জানিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সৌদি ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলে তাঁদের জন্য একটি অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সৌদি ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তুলে ধরে বলা হয়, শুধু তৈরি পোশাক নয়, বাংলাদেশ সাত শতাধিক পণ্য রপ্তানি করছে বিশ্বজুড়ে। আমদানি-রপ্তানি, রিজার্ভ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে পাকিস্তানকে অনেক আগেই পেছনে ফেলেছে। সামাজিক বিভিন্ন সূচকে ভারতের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফাসহ শতভাগ মূলধন যেকোনো সময় ফেরত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব তথ্য জেনে বিস্ময় প্রকাশ করে সৌদি আরবের আউজান কম্পানির কনসালট্যান্ট সুলাইমান বাদার আল বাদার বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা শুনে আমি খুবই বিস্মিত। কিন্তু এই অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কোনো প্রচার বাংলাদেশের নেই।

অথচ মালয়েশিয়া, ইথিওপিয়া, এমনকি ভারত নিজেদের দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। ’

সৌদি প্রতিনিধিদলের প্রধান ও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কম্পানির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মুসাবাব আবদুল্লাহ আলকাহতানি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কোনো কোনো খাতে খুব শিগগিরই আমরা বিনিয়োগ শুরু করব। ’

সৌদি সালওয়া কম্পানির সিনিয়র টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ আহম্মদ ফৌজি আলসাফদি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও জ্বালানি তেল খাতে বিনিয়োগ করতে পারি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলো ভালো ও আকর্ষণীয়। ’

সৌদি আরবের আলফানা এনার্জির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ইরফান বলেন, ‘বাংলাদেশে সোলার প্লান্টে আমাদের বিনিয়োগ আছে। এটি চতুর্থবারের মতো আমার বাংলাদেশ সফর। এ বছরের শেষ নাগাদ আমরা আরো কিছু বিনিয়োগ করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করব। ’

সৌদি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন চাহিদার চেয়েও বেশি। সরবরাহের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সমাধান হবে। সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন। তবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে। গ্যাসের সংকট মেটাতে সরকার এলএনজি আমদানি করে এই সংযোগ দেবে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে। এ কারণেই আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছি। ’

সৌদি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক সৌদি ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করেছেন। আপনারা তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন, অভিজ্ঞতা বিনিময় করুন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ভালো হলে আপনারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। ’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। সৌদি ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলে তাঁদের জন্য একটি অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সৌদি থেকে বাংলাদেশ মূলত জ্বালানি তেল ও সার আমদানি করে, রপ্তানি করে তৈরি পোশাক।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি, বাংলাদেশ রাসায়নিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা