DSE-Trending_uml

গত দুই সপ্তাহ ধরেপুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এর ফলে মোট লেনদেনে সামান্য গতি ফিরছে। এদিকে আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহের সূচনা হয়েছিল।

গত সপ্তাহের পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহ শেষে দর হারিয়েছে ১১টি খাত। বাকি ৯টি খাতে দর বেড়েছে। লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওষুধ-রসায়ন খাত। একই সঙ্গে বেড়েছে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাতও (পিই রেশিও)।

সপ্তাহজুড়ে সূচকের সামান্য উত্থান যেমন ছিল তেমনি ছিল সংশোধনও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মুহূর্তে বাজারের জন্য এটিই কাম্য ছিল। বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী করতে হলে লেনদেন গতিশীল রাখতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেই বাজার গতিশীল হতে পারে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ১৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়েছে। আগের সপ্তাহে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ৩০ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়েছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক বা ডিএসইএস সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বা ২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমেছে।

আগের সপ্তাহে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ বা ৫ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বেড়েছিল। এদিকে আলোচিত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের ব্লু-চিপস খ্যাত ডিএস-৩০ সূচক শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বা শূন্য দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বেড়েছে।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৩০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৩৪ শতাংশ বা ১১৪টির, দর কমেছে ৫৮ শতাংশ বা ১৯৩টির, অপরিবর্তিত ছিল ২২টির দর এবং একটির কোনো লেনদেন হয়নি। এর আগের সপ্তাহে ৩২৯টির মধ্যে দর বেড়েছিল ১৭৮টির, কমেছিল ১২৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টির শেয়ার ও ইউনিট দর, একটি কোম্পানির লেনদেন নেয়নি। গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯৩ কোটি ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৫২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে ছিল এক হাজার ৭১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৩ টাকা।

সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪২ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৩৪২ কোটি ৭২ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৫ টাকা। অর্থাৎ আগের সপ্তাহের তুলনায় সদ্য বিদায়ী সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ১৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে।

গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করেছে বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির মোট ৭৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯১টি শেয়ার ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় হাতবদল হয়েছে, যা বাজারের মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতে দশমিক ৩৪ শতাংশ, পাট খাতে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ, ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতে দশমিক ৫৪ শতাংশ, কাগজ খাতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, ট্যানারি খাতে দশমিক ৮০ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ খাতে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ও টেক্সটাইল খাতে দশমিক ৬৭ শতাংশ দর বেড়েছে।

অন্যদিকে সিমেন্ট খাতে দশমিক ৯৩ শতাংশ, সিরামিক খাতে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, সাধারণ বিমা খাতে দশমিক ৫২ শতাংশ, জীবনবিমা খাতে দশমিক ৪৪ শতাংশ, বিবিধ খাতে দশমিক ৬১ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ওষুধ-রসায়ন খাতে দশমিক ৯৪ শতাংশ, সেবা-আবাসন খাতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভ্রমণ-অবকাশ খাতে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর কমেছে ।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পিই রেশিও বেড়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫০ শতাংশ।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, পিই রেশিও যতদিন ১৫ এর ঘরে থাকে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ থাকে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / স স

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা