bogra_laccha_un.jpg

বগুড়ায় মুরগীর ফার্ম, গরুর গোয়াল, মাছের হ্যাচারী, ধানের চাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী করা হচ্ছে ঈদের প্রধান খাবার লাচ্ছা সেমাই। বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমতি ছাড়াই এভাবে শতাধিক কারখানার চলছে সেমাই তৈরির কাজ। এসব লাচ্ছার কারখানার মধ্যে অধিকাংশ হলো মৌসুমী ব্যবসায়ী। যেকারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালেও ওই মালিকরা অনেকটাই থাকে প্রশাসনের ধরাছোয়ার বাইরে।

 

সরেজমিনে জানা গেছে, বগুড়া শহরসহ কাহালু উপজেলার শেখাহার, দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌমহনী বাজার, আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধনুট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ, গাবতলী উপজেলায় ও বগুড়া শহরের প্রতিষ্ঠিত হোটেল ও রেস্টুরেন্টে বিএসটিআইয়ের অনুমতি ছাড়াই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নেক নজরে লাচ্ছা তৈরী করা হচ্ছে। এদের মধ্যে দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌমহনী বাজারে ৭জন লাচ্ছা তৈরী করছেন তাদের কাছে কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। যে কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদেরকে ডেকে নিয়ে কিভাবে লাচ্ছা তৈরী করা যাবে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেন ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানিয়েছেন। এদের মধ্যে এক ব্যবসায়ীর ৮হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি ঐ নির্দেশনায় অংশগ্রহণ করেননি বলে তার এই শাস্তি বলে গুজব স্থানীয়দের মাঝে।

 

অপরদিকে ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন তার লাচ্ছায় সেমাইতে মাছি, তেলাপোকা ও কেল্লার অবাধ বিচরণকে দোষের কিছু দেখছেন না। কারণ তিনি ইউএনও সাহেবের নেক নজরে আছেন। একই ভাবে ওই বাজারে আব্দুল গাফফারের কারখানায় মাছি, ময়লা যুক্ত, নোংরা আবর্জনায় লাচ্ছা তৈরী করা হচ্ছে। একইভাবে লাচ্ছা তৈরী করছে চৌমহনীর ওয়াসিম, রুবেল,মেহেরুল, দেলোয়ার, বেলালগ্রামের আজাহার, দুপচাঁচিয়ার তালোড়ার হাটখোলার মুক্তার, নিশিন্দারার আবু রায়হান, সদরের গোকুলে রিপন, মহাস্থানের বাগদাদ বেকারির আ. হামিদ, অন্তারপুকুর কাহালুর মোহন-মানিক, শেখাহারের মোমিনুর, ভোলতার মনসুর, আমিনুর, রুবেল উদ্দিন,পাচপীরের আঃ রাজ্জাক, বাবলাতোলার জাকির, দুপচাঁচিয়ার আঃ করিম, মমতাজ, বগুড়া শহরের জেমি লাচ্ছা, সান্তাহারের গ্রামীণ ফুড হোটেলের রিচার্ড, বিসমিল্লাহ হোটেল, শেরপুরের মাসুদ, জনি ফুড প্রোডাক্ট, গোপালপুরের হেলালসহ প্রায় শতাধিক কারখানায় নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই তৈরী এসব লাচ্ছা সেমাই।

 

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টে রাতে লাচ্ছা ভাজার কাজ করছে। এর সঙ্গে মিশানো হচ্ছে ৩-৪ রকমের রং যার ফলে মানবদেহে মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো রোগও হতে পারে বলে জানা গেছে।

 

বগুড়ার বিএসটিআই কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে অনেক জরিমানা করা হয়েছে। তবে তারা বিএসটিআই ছাড়া কোন লাচ্ছা ভাজা যাবেনা এমন নিয়মকে অগ্রাহ্য করে কেন সীমিত আকারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয় এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি।

 

অপরদিকে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির মোড়ক নকল করে নিজেদের তৈরী লাচ্ছা ও চেকন ভাজা সেমাই প্যাকেটিং করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আবার অনেকে মিথ্যে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করছেন। বাজারে রালেক্স নামে চেকন ভাজা সেমাই কোন অনুমতি ছাড়াই সদরের এরুলিয়ার আফসার হাজীর মালিকানাধীন রালেক্স ও ফৌজি সেমাই বাজারজাত করা হচ্ছে। প্যাকেটের গায়ে কোন তারিখ বা বিএসটিআইয়ের কোন লোগো না থাকলেও এভাবেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভোক্তাদের কি খাওয়াচ্ছে তা ভেবে দেখার যেন কেউ নেই! নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও রংয়ের যে মহামারি ঈদের প্রধান উপকরণ সেমাইয়ে ভর করেছে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বারবার ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে সচেতন মহলের দাবি।

 

বগুড়া পৌর সভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাহ আলী খান জানান, রমজান মাসের শুরু থেকে শহরের বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ১০-১৫টি লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে পরিবেশ ভালো না থাকায় জরিমানা দায়ের করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত আছে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / নিজস্ব প্রতিবেদক

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা