পানি

দেশজুড়ে কোথাও মৃদু, কোথাও মাঝারি দাবদাহ চলছে। শ্রমজীবী শ্রেণির বহু মানুষকে এই রোদ মাথায় নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। কেউ রিকশা চালাচ্ছে, কেউ ভ্যান টানছে, কেউ ইট ভাঙছে। অনেককে গনগনে রোদ মাথায় নিয়েই পথ চলতে হচ্ছে। প্রচণ্ড তেষ্টায় সামনে যেখানেই পানি পায়, পান করছে। অনেকে বরফ দেওয়া পানীয় পান করছে। আর এতেই দেখা দিচ্ছে বিপত্তি। হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড় লেগে গেছে। ২০টি জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ অনেক বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব জেলায় মোট এক হাজার ৭৪২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকায় আইসিডিডিআরবি হাসপাতালেও ডায়রিয়ার প্রচুর রোগী আসছে। অন্যান্য হাসপাতালেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।

গ্রীষ্মকালে দাবদাহ একটি স্বাভাবিক ঘটনা। অবশ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবদাহের ব্যাপকতা ও তীব্রতা দুটোই ক্রমে বাড়ছে। সেই সঙ্গে গাছপালা কমে যাওয়ায় মানুষের ছায়া কমে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ গাছতলায় দাঁড়িয়ে শরীর জুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগও কমছে। তা সত্ত্বেও এই দাবদাহের কারণে এত বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। এর জন্য প্রধানত দায়ী রাস্তার পাশের খোলা খাবার ও অনিরাপদ পানি। মানুষের অতিরিক্ত তেষ্টার সুযোগ নিয়ে যারা রাস্তার পাশে নানা ধরনের শরবত বিক্রি করে নিজের পকেট ভারী করছে, তাদের কোনো দায় নেই ক্রেতার স্বাস্থ্যের প্রতি। খরচ করে নিরাপদ পানি সংগ্রহের বদলে নিখরচায় যে পানি পাওয়া যায় তাই ব্যবহার করছে এসব খাবারে। খোলা খাবারে মাছি বসছে, ধুলা পড়ছে—তাই তুলে দিচ্ছে ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত মানুষের হাতে। এ সময়ে মোবাইল কোর্টের ব্যাপক অভিযান প্রয়োজন। কেউ যাতে অনিরাপদ খাবার বা পানীয় বিক্রি করে ব্যাপক মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ওয়াসার সরবরাহ করা পানি নিয়েও মিডিয়ায় অনেক প্রতিবেদন প্রকাশি হয়েছে, অনেক আলোচনা হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। এখনো অনেক জায়গায় পানিতে ময়লা আসে, দুর্গন্ধে মুখের কাছে নেওয়া যায় না। ওয়াসার হাত থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব নেবে কে?

পানি ছাড়া জীবন অচল। নিরাপদ পানি সহজলভ্য না হলে মানুষ অনিরাপদ পানিই পান করতে বাধ্য হয়। শহরগুলোতে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা যাদের দায়িত্ব তারা সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না বলেই ডায়রিয়া বা অন্যান্য পেটের পীড়া এত বেশি ছড়াতে পারছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেহেতু জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব পালন করে, তাই তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যাপারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বাধ্য করতে হবে নিরাপদ পানি সরবরাহে। সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নিয়ে পথচারী, শ্রমজীবীদের জন্য সহজ পানীয়জলের ব্যবস্থা করতে হবে। অনিরাপদ খাদ্য ও পানীয় বিক্রি বন্ধ করতে হবে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা