Editorial

দেশের রাজনীতি ক্রমেই অধঃপতিত হচ্ছে। খুন, জখম, বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা—কী না ঘটেছে সাম্প্রতিক অতীতে।

এখন তাতে যোগ হয়েছে টার্গেট করা নেতা-আমলা বা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফাঁদে ফেলে স্বার্থ উদ্ধার করা। গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফাঁদে ফেলতে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সুন্দরী নারীদের। কারো কারো নৈতিক স্খলনের ঘটনাও ঘটছে। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা সেসব ভিডিও পরে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা হচ্ছে। আগে এ ধরনের কাজ করত অপরাধীরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য। এখন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

 

প্রকাশিত খবরে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাদের টার্গেটের যে তালিকা পাওয়া গেছে, তাতে রয়েছেন জনাবিশেক রাজনীতিবিদ, ১৩ জন শীর্ষস্থানীয় আমলা, পুলিশের ডিআইজি ও এসপি পর্যায়ের ৪০ জন কর্মকর্তা এবং র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয় অভিনেত্রী, মডেল ও সুন্দরী নারীদের।

এ রকম বেশ কিছু ঘটনা পুলিশেরও নজরে এসেছে।

 ধর্মের কথা বলে রাজনীতিতে নামলেও জামায়াত পারে না এমন কোনো জঘন্য কাজ নেই। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যেমন এরা জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, স্বাধীনতার পরও নানাবিধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির এ দেশে রগ কাটার রাজনীতি শুরু করেছিল, তা সবারই জানা। রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ এরা স্বাধীনতার আগেও করেছে, পরেও করছে। এ দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও জঙ্গিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে দলটির। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে এরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বিদেশি সহায়তায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। জানা যায়, চরিত্র হননের ফাঁদে ফেলার মিশনে কয়েক শ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। জামায়াতের এক নেতা বিদেশে বসে এই মিশন পরিচালনা করছেন এবং তাঁর সঙ্গে রয়েছে শিবিরের একটি চৌকস দল। দেশেও রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু নেতাকর্মী যুক্ত আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এ কাজে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত নেতাকর্মীদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরা অতীতে ‘সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে’ বলে সুপার-ইমপোজ করা ছবি ছেড়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। পুলিশের ওপর হামলা করেছে। রাস্তার পাশে থাকা হাজার হাজার গাছ কেটেছে। নৈতিকতার স্পর্শহীন এই দলের নেতাকর্মীদের পক্ষে আরো কত কিছুই না করা সম্ভব!

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। এ সময় দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য আরো অনেক অপচেষ্টাই করা হতে পারে। প্রশাসনকে এসব বিষয়ে আরো সজাগ থাকতে হবে। সময়োচিত পদক্ষেপে সব অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা