NBR

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস এখনো প্রবাসী আয়। লাখ লাখ বাংলাদেশি বিদেশের বৈরী পরিবেশে দিন-রাত পরিশ্রম করে সেই অর্থ দেশে পাঠায়। অথচ দেশের ব্যবসায়ী নামধারী কিছু ব্যক্তি সেই কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করে দেয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ রকম ১৩২টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছে, যার মালিকরা কয়েক বছরে ৪১৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মামলাও করা হচ্ছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মূলত আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশই তৈরি পোশাক রপ্তানির সঙ্গে জড়িত। ওষুধ, প্লাস্টিক, চামড়া ও তৈরি পোশাক খাতের কিছু সহযোগী প্রতিষ্ঠানও অর্থপাচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের কিছু কর্মকর্তা এই পাচারে সহায়তা করেছেন বলেও এনবিআর টাস্কফোর্স প্রমাণ পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে এদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এনবিআরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, এনবিআরের এই উদ্যোগ অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং তারা এ-জাতীয় অপরাধ করা থেকে বিরত থাকবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছরে গড়ে প্রতিবছর ৫৫৮ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা করে পাচার হয়েছে, যার ৮৮ শতাংশ পাচার হয়েছে আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা মূল্য ঘোষণা দিয়ে। জানা যায়, কেবল ব্যাংকিং চ্যানেলেই ২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডে পাচার হয়েছে চার হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। এই হিসাব দিয়েছে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরো অনেক দেশেই এমন পাচার হচ্ছে। পাচার করা অর্থের পরিমাণও প্রতিবছর বাড়ছে। সেই তুলনায় ১৩২টি প্রতিষ্ঠান কিংবা ৪১৬ কোটি টাকা খুবই সামান্য। তা সত্ত্বেও মুদ্রাপাচার রোধে এনবিআরের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে মুদ্রাপাচারের এই সর্বনাশা প্রক্রিয়া চলে এলেও এত দিন তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগই আমরা দেখতে পাইনি। দেশে মুদ্রাপাচারবিরোধী কঠোর আইন আছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ ছিল না বললেই চলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশসহ আরো কিছু সংস্থা এই মুদ্রাপাচার রোধে কাজ করে আসছে। কিন্তু সাফল্য ছিল খুবই কম। আমরা এনবিআরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

ইতিবাচক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তালিকায় বাংলাদেশ তলানিতে থাকলেও মুদ্রাপাচারে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০টি দেশের মধ্যে ৪০তম। দুর্নীতিতেও প্রথম ২০টি দেশের মধ্যে। উন্নত দেশের তালিকায় যেতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই এসব দুষ্টক্ষত থেকে মুক্ত হতে হবে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস, বিশেষ শুল্ক সুবিধা নিয়ে যারা দেশের ক্ষতি করে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ১৩২টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেসব পাচারকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরেও যারা অর্থ পাচার করছে, তাদের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

 
 


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টিকে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা