untitled-18_nar

সাম্প্রতিক জঙ্গি সংকটে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে 'নারী জঙ্গি'। আমরা দেখেছি, গুলশান ট্র্যাজেডির সূত্র ধরে এগোতে গিয়ে পুলিশ সিরাজগঞ্জে চার নারী জঙ্গিকে আটক করেছিল। তাদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ছয়টি তাজা বোমা, বোমা বানানোর সরঞ্জাম ও জিহাদি পুস্তিকা। তাদের প্রস্তুতি দেখে মনে হওয়া অমূলক নয় যে, কোথাও হামলা করার জন্যই ওই আস্তানায় তারা জড়ো হয়েছিল। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০। বিস্ময়কর যে, কেউ কেউ ইতিমধ্যে সন্তানের মা হয়েও জঙ্গিত্বের পথ বেছে নিয়েছিল। অবশ্য তাদের স্বামীরাও জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়ে অনেক দিন ধরেই নিখোঁজ। আটক ওই নারীদের পরিবারের পক্ষে তাদের জঙ্গিবাদী জীবন বেছে নেওয়ার খবর স্বীকার না করলেও, তারা যে স্বামীদের হাত ধরেই সহিংস পথে পা বাড়িয়েছে_ এ বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সিরাজগঞ্জের চার নারী জঙ্গি নিয়ে নানামুখী আলোচনা ও বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই ঢাকা থেকে আরও চার তরুণী আটক হয় জঙ্গি সম্পৃক্ততার কারণে। এদের তিনজন মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের ছাত্রী এবং একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য পাস করা ডাক্তার, যে ওই মেডিকেল কলেজেই শিক্ষানবিশিকাল অতিবাহিত করছিল। বিত্তশালী পরিবার থেকে আসা গুলশান ও শোলাকিয়া হামলা এবং কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের সামাজিক অবস্থান নতুন বিস্ময়ের সৃষ্টির পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদের চর্চা নিয়ে আতঙ্কে ফেলে দিয়েছিল পিতা-মাতাদের, বলা বাহুল্য। একের পর এক 'নারী জঙ্গি' আটক হওয়ার ঘটনা তাতে নতুন মাত্রা জুগিয়েছে। কেবল নতুন মাত্রা নয়, বরং আতঙ্কের নতুন স্তর। নারীরা নানাভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হলেও মাতৃত্বের কারণেই তাদের হৃদয় সর্বাবস্থাতেই মমতাময়। পরিবারের সেবা ও সন্তান লালনকারী হিসেবে সমাজে সহিংসতার চেয়ে শান্তির জন্য উদগ্রীব থাকে। বাংলাদেশের নারীরা তো হৃদয়ের দিক থেকে আরও কোমল বলে পরিচিত। এখানে নারীরা কেন জঙ্গিত্বের দিকে ধাবিত হয়ে মানুষ হত্যার পথে নেমে পড়বে কথিত জিহাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, এটা ভাবতেও অবাস্তব লাগে বৈকি!

অবশ্য এই প্রবণতা যে বাংলাদেশেই প্রথম, সেটা বলা যাবে না। মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর মারনি এল সুতেনের গবেষণায় জানা যায়, গত ১০ বছরে কমপক্ষে ৩৮টি আন্তর্জাতিক বা গৃহযুদ্ধে নারীদের জড়িত হতে দেখা গেছে এবং মোট যোদ্ধার শতকরা ১০ থেকে ৩০ ভাগ নারী। সর্বশেষ সিরিয়ার আইএসে যোগ দেওয়া বিদেশি যোদ্ধাদের মধ্যেও ১০ ভাগ নারী।

সর্বশেষ আটক হওয়া চার নারী জঙ্গি আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেকেরই মনে আছে, যুক্তরাষ্ট্রের সান বারনারডিনো শহরে গত বছর ডিসেম্বরের গোড়ায় ২৯ বছর বয়সী পাকিস্তানি তরুণী তাসফিন মালিক তার স্বামী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুককে সঙ্গে নিয়ে গুলি করে ১৪ জনকে হত্যা ও ২২ জনকে আহত করেছিল। ফার্মাসিতে অধ্যয়ন করা সাদাসিধা মেয়েটি এক সময় উগ্র মতাদর্শে উজ্জীবিত হয় পাঞ্জাবের ওয়াহাবি ইসলামী ধারায় পরিচালিত এক মাদ্রাসায়। তারপর 'জিহাদি' হয়ে পড়ে। প্যারিসের শার্লি এবদো পত্রিকায় জঙ্গি হামলার সঙ্গেও হায়াত বুমেদিন নামের এক তরুণীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ঠিক মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির তিন ছাত্রী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমায়। তাদের মধ্যে খাদিজা সুলতানা ও শামীমা বেগম ছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। খাদিজা সুলতানা কয়েক সপ্তাহ আগে বোমা হামলায় নিহত হয়েছে। আইএসের নারীবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নিষ্পেষণ দেখে খাদিজা আইএস ছেড়ে পালাতে চেয়েও রুশ বিমান হামলায় মারা যায়। তাসফিন মালিকের সশস্ত্র জিহাদি হয়ে ওঠার পেছনে অবশ্য তেমন আর্থ-সামাজিক কারণ পাওয়া যায় না। তবে সাধারণ অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে ভয়ানক হামলা করতে সমর্থ হয়েছিল সে। আমাদের জন্য আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে আটক চার নারী জঙ্গির জীবনধারার সঙ্গে তাসফিন মালিকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

আমরা দেখি, বাংলাদেশে লিঙ্গ বৈষম্যের অনেক নজির থাকলেও নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকারের সূচক অগ্রসরমাণ। গ্রামাঞ্চলে বরং নারীরা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ফতোয়ার শিকার হয়ে থাকে; মূলধারার শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা জেনেছি, আইএস অধ্যুষিত সিরিয়াতে মেয়েদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন হয়ে থাকে। ভিন্নধর্মী ও ইয়াজিদি মেয়েদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও জোর করে বিবাহ, বাল্যবিবাহ, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে এই চিত্র এ দেশের নারীদের কাছে অশ্রুত নয়। সর্বশেষ ধরা পড়া চার 'শিক্ষিত' তরুণীর কাছে তো নয়ই। ফলে নারীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পুরুষ থেকে আলাদা কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

নারী জঙ্গি তৈরিতে বৈবাহিক সম্পর্ককে সাংগঠনিকভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায় অবশ্য। বিবাহিত স্ত্রীকে ভালোবাসার চেয়ে জঙ্গি বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পিছপা হয় না জঙ্গিরা। আগেই জেনেছি, সিরাজগঞ্জের আটক চার নারী জঙ্গি নিখোঁজ জঙ্গিদের সহধর্মিণী। তথাকথিত জিহাদিরা নিজ বোন ও আত্মীয়দের স্বনামে-বেনামে অন্য জঙ্গির সঙ্গে বিয়ে দিয়ে নারী যোদ্ধার সংখ্যা বাড়ানোর কৌশলও নিয়ে থাকে। নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে তারা সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখে হামলায় নিহত হলে জঙ্গির স্ত্রীর পরবর্তী স্বামী হবে কে। ফলে একবার জিহাদি বলয়ে পা দেওয়া নারীর পক্ষে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকে না; জিহাদি বধূ হিসেবেই থেকে যেতে হয় চিরজীবনের জন্য।

নারী জঙ্গিরা প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের আদান-প্রদান, আস্তানা পরিচালনা, অস্ত্র সংরক্ষণ ও লুকানোর কাজ করে থাকে; কারণ তাতে করে গোয়েন্দা ও পুলিশের নজরদারি এড়ানো সহজ হয়। সামাজিক সহনশীলতার কারণে সন্দেহমুক্ত চলাচল সহজ হয়। গুলশান, শোলাকিয়া হামলা ও কল্যাণপুরে বড় ধরনের হোঁচট খাওয়ার পর এ দেশীয় জঙ্গিরা স্বভাবতই নিরাপত্তার বেড়াজাল ভাঙতে নারীদের ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। জঙ্গিদের ভেঙে পড়া মনোবল পুনরুদ্ধার করতে একটি 'সার্থক' হামলাও জঙ্গিদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সে কারণেও নারী জঙ্গিদের তৎপরতা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।

জঙ্গি যোদ্ধা হিসেবে কেবল নয়, জঙ্গিবাদ সহায়ক প্রকাশ্য তৎপরতাতেও নারীদের ব্যবহার লক্ষণীয়। আমরা দেখতে পেলাম, রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামীর পরিচালনাধীন ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যেও পাঁচজন নারী। আটকদের মধ্যে বাড্ডা থানা জামায়াতের আমির ফখরুদ্দীন কেফায়াতুল্লাহ, তার স্ত্রী সালেমা আক্তার ও দুই মেয়ে খাদিজা খাতুন ও আয়েশা সিদ্দিকা রয়েছে। এ ছাড়াও বাড়ির মালিক বিল্লাল, তার স্ত্রী শান্তা বিল্লাল ও মা হালিমা বেগম রয়েছেন।

লক্ষণীয়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রী সংস্থার ব্যাপারে তিনটি মন্তব্য করে বলা হয়_ 'সংস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো কোমলমতি ছাত্রী ও সরলমনা ধর্মভীরু মহিলাদের জিহাদে অংশগ্রহণসহ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির হীন লক্ষ্যে তাদের (নারী) জিহাদি মনোভাবাপন্ন করে তৈরি করে মাঠে নামানো।' ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা গ্রামগঞ্জে ও সারাদেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 'জাহান্নামের আগুন' থেকে মুক্তিলাভের উপায় এবং 'আল্লাহর সানি্নধ্য' লাভের নামে প্রতারণামূলক প্রলোভন দিয়ে সংগঠনে যোগ দিতে সরলমনা নারীদের উদ্বুদ্ধ করছে। বর্তমান সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পারছে না বিধায় মূল দল জামায়াতে ইসলামীর অর্থায়নে তাদেরই নারী টিম হিসেবে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে।

এখানেই একটি বড় ধরনের প্রশ্ন আমাদের সামনে হাজির হয়। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ কি বিশ্বের অন্যত্র ইসলামের নামে চালানো জঙ্গিবাদ থেকে আলাদা চরিত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে? এখন আর অস্বীকারের অবকাশ নেই যে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামের দলটি জঙ্গি চর্চার চাবিকাঠি। তারাই যে দেশে জঙ্গিবাদী আদর্শ ও তৎপরতা সম্প্রসারণের পেছনে, তা আড়াল করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দেখা গেছে, বহুল আলোচিত জঙ্গি 'বাংলা ভাই' এবং শীর্ষস্থানীয় আরও অনেক ছাত্রশিবির বা জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরোক্ষভাবেও জঙ্গিবাদে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে নতুন করে কিছু বলা নেই। এখন বরং অনুসন্ধান চালানো জরুরি যে নারী জঙ্গি তৈরির ক্ষেত্রে ছাত্রী সংস্থার কী ধরনের ভূমিকা রয়েছে।

বস্তুত, নারীদের জিহাদি বানানোর ক্ষেত্রে ১৯৭৮ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ভূমিকা অনবদ্য হয়েই আছে। ছাত্রীদের জিহাদি মতবাদে আকর্ষিত করতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতোই দেশের মাধ্যমিক স্তরের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিভিন্ন প্রশাসনিক থানা, জেলা ও মহানগরে ছাত্রী সংস্থা তৎপর। গত কয়েক বছরে জামায়াতে ইসলামীর বড় মগবাজারের অফিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, ইডেন কলেজ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। গত সপ্তাহে রাজধানীতে আটক জেএমবির চার নারী জঙ্গিও এক সময়ে এই ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মী ছিল। এর আগে ২৩ ও ২৪ জুলাই রাজধানীর ইডেন কলেজ থেকে জঙ্গি সন্দেহে ছাত্রী সংস্থার পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ।

উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে জিহাদি মতাদর্শ বিস্তারের অনেক ধরনের কৌশলী অনুশীলন দেখা যায়। ইসলামী দাওয়া নামে মাহফিলের আড়ালে চলে জঙ্গি মতাদর্শের দীক্ষা। পরিবারের মধ্যমণি মাকে ধর্মান্ধ করতে পারলে পুরো পরিবারকে সক্রিয় জঙ্গি বানাতে না পারলেও সমর্থক বানিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করা সম্ভব। বিত্তশালী পরিবারের মাতা ও কন্যাকে এখন প্রায়ই দেখা যায় 'মাহফিল' আয়োজন করতে। সেখানে জঙ্গিবাদী দর্শন ছড়ানো ও বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে ইসলামসম্মত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা তৈরিতে এগিয়ে যায়। ধর্ম দিয়ে বাঙালিত্বকে চ্যালেঞ্জ করে স্বাধীনতাবিরোধীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে ক্রমান্বয়ে জঙ্গিবাদে টেনে নেওয়া হয়।

কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে নারী জঙ্গিদের উত্থান নিঃসন্দেহে নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। ধর্মকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা ধর্মান্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধীরা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমাজকে পরিবর্তনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। নারী জঙ্গিবাদ তাদের আরেকটি 'তুরুপ' হওয়া অমূলক নয়। 'নারী' হিসেবে যারা 'সফট' ইস্যুতে নারীদের সংগঠিত করে 'মাহফিল' ইত্যাদি আয়োজন করে চলছে, তাদের নির্বিঘ্ন তৎপরতা চালিয়ে যেতে দেওয়া হলে নারী জঙ্গির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের প্রথম কাজ হচ্ছে, সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির বাঙালি সমাজ সম্পর্কে বিদ্বেষ তৈরি করে, পরে সেটা ধর্মীয় বিদ্বেষে রূপান্তরিত হয়। ধর্মের নামে এই সহিংসতা সমাজে জায়গা পেলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক নমনীয়তা ও সার্বজনীন অধিকার ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং মরু সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের জাতিসত্তা হুমকিতে পড়বে।

সন্দেহ নেই যে, নারীর ক্ষমতায়ন আরও জরুরি। আমরা চাই, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে আসুক। কিন্তু তারা কোনো নারী জঙ্গিবাদীর খপ্পরে পড়ছে কি-না, সেটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবারেরও। 


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা