জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষা

প্রাথমিক সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। ভালো ফল করায় অনেক স্কুলেই আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

উল্লাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। সেই আনন্দে শরিক হন অভিভাবকরাও। এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বা পিইসিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮.৫১ শতাংশ ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় ৯৫.৮৫ শতাংশ। ফলাফল গত বছরের মতোই আছে। গত বছর পিইসিতে পাসের হার ছিল ৯৮.৫২ শতাংশ এবং ইবতেদায়িতে ছিল ৯৫.১৩ শতাংশ। এবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা জেএসসি ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট বা জেডিসিতে পাসের হার সামান্য বেড়েছে। বেড়েছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিনন্দন এবং যারা নানা কারণে প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের প্রতি রইল শুভকামনা। আমরা আশা করছি, পরবর্তী পরীক্ষায় তারা এই ব্যর্থতা কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে সক্ষম হবে।

 পিইসি, জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষা শিক্ষা সোপানের প্রাথমিক পর্যায়ের কয়েকটি ধাপ। এখানেই গড়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত। ভিত্তি ভালো না হলে যেমন ভবন মজবুত হয় না, তেমনি শিক্ষার ভিত ভালো না হলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনও গতি পায় না। স্বাভাবিকভাবেই জাতি হিসেবে আমরা চাই, প্রাথমিক পর্যায়ের এই শিক্ষা ক্রমান্বয়ে আরো উন্নতি করুক, শিক্ষার ভিত মজবুত হোক। বলতে দ্বিধা নেই, বিগত কয়েক দশকে আমাদের শিক্ষার ভিত অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নানামুখী প্রচেষ্টা চলছে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে স্কুলগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা চলছে। আধুনিক শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এমন সব উদ্যোগের ফলে কিছুটা উন্নতি হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষা থেকে আমরা অনেকটা দূরেই রয়ে গেছি। তার একটি বড় কারণ মানসম্মত শিক্ষকের অভাব। আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় না হওয়ায় মেধাবীরা খুব কমই আসেন শিক্ষকতা পেশায়। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে অনেক অভিযোগ। আবার গ্রামের স্কুল ও শহরের স্কুলের মধ্যেও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মান উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধাও তেমন বাড়ানো যায়নি। ফলে পাসের উচ্চহার ও জিপিএ ৫ পাওয়ার ছড়াছড়ি থাকলেও শিক্ষার ভিত হিসেবে পরিচিত প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। এতে উচ্চতর শিক্ষার গতিও ব্যাহত হচ্ছে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টিকে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা