boookkk

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের উৎসব চলছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বই কম আসায় মাধ্যমিক ও প্রাথমিক দুই শ ৫১টি বিদ্যালয়ের ৬১ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থীর কাছে এখনো দুই ও চার বিষয়ের প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৫০টি বই পৌঁছেনি। বছরের শুরুতে ওইসব বিষয়ের বই না থাকায় বিদ্যালয়ে ক্লাস না করতে পেরে হতাশ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সকল বই পৌঁছে যাবে শিক্ষার্থীদের হাতে।
 
সোমবার উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪২ হাজার আট শ শিক্ষার্থীর জন্য দুই লাখ দুই হাজার আট শ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু প্রাথমিকে মাত্র ৬৪ হাজার চার শ বই পাওয়া গেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে এক বিষয়ে ও তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শুধু মাত্র দুইটি বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ধর্ম শিক্ষাসহ অনেক বই এখনো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছেনি। অপরদিকে ৫১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য তিন লাখ এক হাজার দুই শ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক দুই লাখ ৭৪ হাজার ২৫০টি বই পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের হাতে সকল বিষয়ের বই তুলে দেয়া যায়নি। সব মিলিয়ে চাহিদার তুলনায় এখনো এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৫০টি বই পাওয়া যায়নি। এতে ৬১ হাজার আট শ শিক্ষার্থী অধিকাংশ বিষয়ের নতুন বই পাওয়া থেকে এখনো বঞ্চিত।
 
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বছরের শুরুতেই ছেলে-মেয়েরা দুই থেকে চার বিষয়ের নতুন বই পায়নি। এতে ছেলে-মেয়েরাও খুব কষ্ট পাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি বইগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করার প্রয়োজন ছিলো।
 
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোল্লার হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক বলেন, ‘বিদ্যালয় বই বিতরণের জন্য যাতায়াতসহ সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা না দিয়ে উল্টো শিক্ষকদের কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করেন মাধ্যমিক কর্মকর্তা। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা ফেদৌসী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী বই পেলে সব বই শিক্ষার্থীরা দ্রুত পেয়ে যাবে। তবে মাধ্যমিক কর্মকর্তা সরকারি বরাদ্দ শিক্ষকদের না দেয়ার কথা স্বীকার করলেও উল্টো নেয়ার কথা অস্বীকার করেন।’


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা