Panguin

ভাবুন তো ছোট্ট একটি দ্বীপের কথা, যে দিকেই দৃষ্টি যায়, ঘুরে বেড়াচ্ছে শুধু পেঙ্গুইনের দল? দারুণ ব্যাপার, তাই না! অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৯০০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ম্যাককোরি দ্বীপকে রীতিমতো পেঙ্গুইনের দ্বীপ বলা চলে। ৪০ লাখ পেঙ্গুইনের বাস এখানে।

ম্যাপে ম্যাককোরি দ্বীপটি খুঁজে পেতে একটু কষ্টই হবে। আকারে মাত্র ১২৮ বর্গমাইল।

তবে পেঙ্গুইনদের তাতেই দিব্যি চলে যায়। তাদের প্রতিবেশী হিসেবে দ্বীপটিতে আরো থাকে লাখখানেক এলিফ্যান্ট সিল। বলা চলে, রীতিমতো গমগমে একটা বসতি গড়ে উঠেছে নীল সাগরের মাঝে। তবে এমন সুখের রাজ্য কিন্তু আগে ছিল না। গত শতক পর্যন্ত এই দ্বীপে পেঙ্গুইন খুঁজে পাওয়াই ছিল দায়। চামড়ার লোভে ওদের দেদার শিকার করত শিকারির দল। তবে ১৯৬০ সালে শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এই অবস্থাটা পাল্টে যায়।

১৯৯৭ সালে ইউনেসকো দ্বীপটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করে।   এই দ্বীপটি দেখভালের দায়িত্বে আছে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্য সরকার। আবহাওয়া ভীষণ ঠাণ্ডা, হুহু করে বাতাস বয় ২৪ ঘণ্টা। সারা বছর তাপমাত্রা ওঠা-নামা করে তিন থেকে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। কাছেই যে অ্যান্টার্কটিকা, ম্যাককোরি দ্বীপে মানুষজন বড় একটা থাকে না। গরমের সময় এখানে ঘাঁটি গাড়েন ৪০ জন বিজ্ঞানী, আর তাঁদের দলবল। শীতকালে সংখ্যাটা নেমে আসে ২০-এ। তবে পেঙ্গুইনদের জন্য এটাই আদর্শ পরিবেশ। দ্বীপে চার প্রজাতির পেঙ্গুইন দেখা যায়। এদের মধ্যে আছে কিং, রয়্যাল, জেনটু আর রকহপার পেঙ্গুইন। আছে অন্যান্য পাখিও।
নিশ্চিন্তে উড়ে বেড়ায় পেট্রেল, স্কুয়া, অ্যালবাট্রস আর নানা জাতের হাঁস। মানুষের সঙ্গে সঙ্গে দ্বীপে এসে ঘাঁটি গেড়েছে বিড়াল, খরগোশ আর ইঁদুরের দল। এসব নতুন প্রজাতি মাঝেমধ্যেই দ্বীপের নিজস্ব ইকোসিস্টেমে গোলমাল পাকায়। এ জন্য সরকারিভাবে মাঝেমধ্যেই এদের শিকার করা হয়।   মানুষের উপস্থিতি এক রকম না থাকার কারণে গোটা দ্বীপই বলা চলে এর স্থানীয় বাসিন্দাদের দখলে। পালে পালে গদাইলস্করি চালে হেঁটে বেড়ায় পেঙ্গুইনের দল। সিলেরা সশব্দে ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে কিংবা ডাঙায় উঠে রোদ পোহায়।

প্রায় ১২ ফুট লম্বা এই প্রাণীগুলোর একেকটার ওজন দুই হাজার থেকে চার হাজার কেজি। আকাশে উড়ে বেড়ানো সুযোগসন্ধানী স্কুয়া চিলের দলের নজর পেঙ্গুইনের ডিম-বাচ্চার দিকে, মরা সিলের মাংসেও অরুচি নেই। রীতিমতো আদিম পরিবেশ বটে।   দ্বীপটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়াও বিরতিস্থল হিসেবে ব্যবহূত হয়। অ্যান্টার্কটিকাগামী জাহাজগুলো এখানে যাত্রাবিরতি নেয়। সাগর এখানে ভীষণ অশান্ত। জাহাজ হলো একমাত্র যাতায়াতমাধ্যম। নিউজিল্যান্ড বা তাসমানিয়া—দুই জায়গা থেকেই আসা যায় এই দ্বীপে, সময় লাগে তিন থেকে চার দিন।

বন্দরের বালাই নেই এই দুর্গম দ্বীপে। জাহাজ থেকে স্রেফ নৌকায় করে আপনাকে নামিয়ে দেওয়া হবে সৈকতে। হোটেল? সে গুড়ে বালি। এই দ্বীপে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেন্দ্রে বড়জোর হালকা খাবারদাবার পাওয়া যেতে পারে। থাকতে চাইলে রাত কাটাতে হবে জাহাজে। তা উত্তাল সমুদ্রে ঘুমানো চাট্টিখানি কথা নয়। এ জন্য বেশির ভাগ পর্যটকই এক বা দুই দিনের বেশি এখানে থাকেন না।  

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার দিকে তাসমানিয়ান সরকার রাখে কড়া নজর। একবারে যেন বেশিসংখ্যক পর্যটক দ্বীপে পা রাখতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখেন সরকারি রেঞ্জাররা। এখানে কোনো গাড়ির ব্যবস্থা নেই। পর্যটকদের জন্য কিছু ট্রেইল বা হাঁটা পথ নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, হাঁটতে হলে সেখান দিয়েই হাঁটতে হবে। এ ছাড়া পেঙ্গুইন বা সিলদের পাঁচ ফুটের বেশি কাছে যাওয়াও নিষেধ। তবে পেঙ্গুইনরা যদি কৌতূহলী হয়ে আপনাকে একটু পরখ করতে এগিয়ে আসে, সেটি আলাদা কথা!



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা