dinajpur

রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসন দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী)। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি এ আসন। বৃহত্তর রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রভাব থাকলেও এখানে তেমন কোনো জনপ্রিয়তা নেই। তবে বিএনপির দাপট আছে আসনটিতে।

পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রতিষ্ঠানের কারণে আলোচনায় থাকে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ীর নাম। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুর উপজেলায়।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদে প্রার্থী হওয়ার টার্গেট রয়েছে অনেকেরই। এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় শুরু করেছেন তত্পরতা।

এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী নেতা, বর্তমান এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তাঁর বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলায়। এরই মধ্যে সভা-সমাবেশ করাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন ছয়বারের এই এমপি।

কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরব রয়েছেন মাঠে। তবে পরিবারের সদস্যদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এমপি ফিজারকে নিয়ে দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও সভা-সমাবেশ করছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে চলছে তাঁদের কমিটি গঠনসহ কর্মী সংগ্রহ করার তত্পরতা।

তবে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের কারো নাম শোনা যায়নি। জোট হলে বিএনপির বাক্সে ভোট পড়বে—এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ছাড়া অন্যরা হলেন পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দুল আলম শান্ত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মাহমুদুন্নবী চৌধুরী, পার্বতীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এস এইচ সাজ্জাদ, দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সফেদ আশফাক তুহিন। প্রত্যেকেই মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আলাদাভাবে সভা-সমাবেশ করছেন।

এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। এ ছাড়া ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা, সাবেক এমপি ও এরশাদ সরকার আমলের প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার শিক্ষা উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আলী সরকারও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ আসনে বিএনপি থেকে রেজওয়ান মনোনয়ন পাবেন বলে জোর দিয়ে জানায় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তরুণ নেতা সোলায়মান সামি। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মাত্র দুইবার ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে নবগঠিত বিএনপি প্রার্থী মনসুর আলী সরকার একবার এ আসনে বিজয়ী হন। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্জনের মধ্যে বিজয়ী হন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।

এর পর থেকে টানা এ আসন আওয়ামী লীগেরই দখলে রয়েছে। আর এর মূল নেতৃত্বে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। এ পর্যন্ত তিনি ছয়বার এমপি নির্বাচিত হন। এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে জিতে প্রথমে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪-এর নির্বাচনে জিতে দায়িত্ব নেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

তবে ফিজারের পরিবারের লোকজনের কারণে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে নাখোশ দলের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।

ফিজারের বিষয়ে ফ

উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা