dog

যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ডিককিন মেডেল পাচ্ছে দেশটির স্পেশাল ফোর্সের একটি কুকুর। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযানে শতাধিক সেনাকে বাঁচানোর স্বীকৃতিস্বরূপ শুক্রবার তাকে এ মেডেল দেওয়া হয়। বেলজিয়ামের মলিনোইন প্রজাতির কুকুরটির নাম মালি। যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া ক্রস সম্মাননার সমতুল্য পিডিএসএ ডিককিন মেডেলে ভূষিত করা হয় কুকুরটিকে।

সম্মুখ যুদ্ধে ব্যাপক সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য সেনাদের ভিক্টোরিয়া ক্রস পদক দেওয়া হয়। মালি নামের কুকুরটিকে এর সমতুল্য পিডিএসএ ডিককিন মেডেল দেওয়ার কারণ ২০১২ সালে আফগানিস্তানে তার অনন্য ভূমিকা। ওই বছর দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ এক সামরিক অভিযানে তালেবানদের একটি ফাঁদ শনাক্ত করতে সক্ষম হয় সে। ঘ্রাণ শুঁকেই সে ওই ফাঁদের বিষয়টি বুঝতে পারে।

কাবুলের একটি টাওয়ার থেকে জঙ্গিদের উৎখাতে ওই অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আট বছরের কুকুরটিও অংশ নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায়ও সে সেনাদের সহায়তা অব্যাহত রাখে।

স্পেশাল বোট সার্ভিসের (এসবিএস) অভিযানে অংশ নিয়ে অনেক ব্রিটেন ও আফগান সেনাদের জীবন বাঁচানোর জন্য কুকুরটিকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

অসুস্থ জীবজন্তুর জন্য গঠিত পিপলস ডিসপেনসারির দাতব্য পশুচিকিৎসা বিভাগের মহাপরিচালক জান ম্যাকলাওলিন বলেন, ‘মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েও কুকুরটি তার নির্দেশদাতার পাশেই অবস্থান করছিল এবং সেনাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করছিল। এটাই হলো কাজের প্রতি কুকুরটির শ্রদ্ধা ও ভক্তি।’

কাবুলের একটি টাওয়ারে অবস্থান করা সুইসাইড স্কোয়াডের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে আনা এবং তালেবানদের আক্রমণ থেকে ওই এলাকাকে নিরাপদ রাখাই ছিল মিশনের প্রধান উদ্দেশ। মালি (কুকুর) ওই অভিযানের একটি অংশ ছিল।

অভিযানের সময় কুকুরটি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার পাশেই অবস্থান করছিল। যদিও ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।  যাকে ওই টাওয়ারে বিস্ফোরক খোঁজার জন্য অভিযানে সম্মুখভাগে সরাসরি গুলি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সফলতার সঙ্গে কয়েবার জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে পেরেছিলেন। যাতে তার পেছনে থাকা দলটি শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধে চূড়ান্ত জয়লাভ করতে পারে।

অভিযানের  সময় মালি তিনটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে আহত হয়। যার প্রথম দুটি বিস্ফোরণে মালির বুক, মুখ এবং পেছনের এক পাশের পায়ে আঘাত লাগে। আর শেষের ডেটোনেট বিস্ফোরণে মালির মুখে আঘাত লাগে। যাতে সে তার সামনের দাঁতগুলো হারায় এবং তার ডান কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কুকুরটির বর্তমান নির্দেশক বা নির্দেশদাতা করপোরেল ডানিয়েল হ্যাটলে বলেন, ‘আমি মালিকে নিয়ে গর্ববোধ করি। সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে সে আমার সহকর্মীদের জীবন বাঁচিয়েছে। এ পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে ওইদিন অভিযানে অংশ নেওয়া ফোর্সের মধ্যে মালির ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে কুকুরটিকে অভিযানের সম্মুখভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন মালি ও তার নির্দেশক হ্যাটলে লিচেস্টারসায়ারের সামরিক এনিমেল সেন্টারে নতুন নির্দেশদাতাদের প্রশিক্ষণে কাজ করছে।

হাতে তৈরি বোমা এবং বিস্ফোরক শনাক্তের কাজে আফগানিস্তানে বিভিন্ন অভিযানে কুকুরকে অত্যন্ত ‍গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হয়। স্পেশাল ফোর্স বিভিন্ন অভিযানে নিয়মিত কুকুর ব্যবহার করে।

জানা গেছে, ১৯৪৩ সাল থেকে ডিককিন মেডেল পুরস্কার দেওয়া শুরু করেন পিপলস ডিসপেনসারির দাতব্য পশুচিকিত্সা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া ডিককিন। এর আগে বিভিন্ন অভিযানে ভূমিকা রাখায় ৩২টি কবুতর, ৩১টি কুকুর, চারটি ঘোরা ও একটি বিড়ালকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা