trump

রাশিয়াকে হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল হ্যাকের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মনোনীত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর হিলারি ক্লিনটন যেসব ই-মেইল তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেননি সেগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রকাশ করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটির কর্মকর্তাদের ই-মেইল ফাঁস করে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বীকে সুবিধা দিতে চেয়েছে অভিযোগের মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন তিনি। হিলারির প্রচার শিবিরের দাবি, নির্বাচনে ট্রাম্পকে সহায়তা করতে রাশিয়ানরাই রয়েছে জাতীয় কমিটির ই-মেইল ফাঁসের পেছনে; যাতে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থীর বাছাই পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের তুলনায় হিলারির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে দেখানোর চেষ্টা দেখা যায়।

বুধবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, 'রাশিয়া, যদি তুমি শুনতে পেয়ে থাক, আমি আশা করি গায়েব হয়ে যাওয়া (হিলারির) ৩০ হাজার ইমেইল খোঁজার সামর্থ তোমার রয়েছে।'

২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি সরকারি কাজের জন্য ব্যক্তিগত ই-মেইল একাউন্ট ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকারের আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে ২০১৫ সালে অভিযোগ ওঠার পর সেগুলো প্রকাশের উদ্যোগ নেন হিলারি। তবে এর মধ্যে কিছু ইমেইল প্রকাশ না করে সেগুলো ব্যক্তিগত বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে ট্রাম্পের এই প্রতিদ্বন্দ্বী।

উন্মুক্ত করা ওইসব ইমেইল খতিয়ে দেখে তাতে অপরাধের অভিযোগ আনার মতো কিছু পায়নি বলে জানায় এফবিআই। যদিও হিলারি সেসময় রাষ্ট্রের বিশেষায়িত তথ্য সামলাতে 'চরম অযত্নের' পরিচয় দিয়েছেন বলে চলতি মাসে মন্তব্য করেছেন এফবিআই পরিচালক জেমস কোমে।

এদিকে ডেমোক্রেট দলের জাতীয় কমিটির প্রায় ২০ হাজার ইমেইল ফাঁসে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার হাত রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের মুখ থেকে শোনার পর ডেমোক্রেটদের ঘোরতর সন্দেহ, এর পেছনে নিশ্চয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মদদ রয়েছে।

আর ইমেইল ফাঁসে ট্রাম্প-পুতিন যোগসাজস বা তাদের মধ্যে আগে থেকে কোনো সম্পর্ক থাকার বিষয়ে ডেমোক্রেটদের সন্দেহও জোর দিয়ে অস্বীকার করেছে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের প্রচার শিবির। রাশিয়ানদের হাতে ইমেইল হ্যাকড হওয়ার তত্ত্ব নাকচ করে বুধবার ট্রাম্পও বলেন, 'এটা (রাশিয়াকে সন্দেহ) বেশি হয়ে যায়, এটা এতই অবিশ্বাস্য।'

রাশিয়ার থেকে চীন বা অন্য কোনো পক্ষ এতে জড়িত থাকতে পারে বলে ভাবার পরামর্শ দেন এই রিপাবলিকান।

রয়টার্স বলছে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে পুতিনের প্রশংসা করা ট্রাম্প রাশিয়ার এই নেতাকে চিনতেন না বলে বুধবার মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হয়েছে নিজের ফ্লোরিডার একটি বাড়ি বেচার সময়; বাড়ির যা দাম তার চেয়ে বেশিই পরিশোধ করেছিলেন ওই ক্রেতা রাশিয়ান।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / স স

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা