image_un-tramp

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালে ডেমোক্রেটিক পার্টির ই-মেইল হ্যাকিংয়ে জড়িত রুশ এজেন্টদের শনাক্ত করার দাবি করেছে আমেরিকার গোয়েন্দারা। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে, আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিং বিষয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আক্রমণ করায় ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তিনি ট্রাম্পকে পরিপক্ব হওয়ার পরামর্শ দেন। তাছাড়া, শুক্রবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফিং দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স
শনাক্তকৃত ওই রুশ এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডেমোক্রেটিক পার্টির ই-মেইল হ্যাক করে তারা সাড়া জাগানো তথ্যফাঁসকারী প্রতিষ্ঠান উইকিলিকসে সরবরাহ করেছেন। যদিও হ্যাকিং ইস্যুতে রুশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন উইকিলিকস প্রধান জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এবং আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রশাসনও আমেরিকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে শনাক্তকৃত রুশ এজেন্টদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি উইকিলিকসের হাতে ডেমোক্রেটিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্যদের হাজার হাজার নথি তুলে দিয়েছিলেন, তাদেরও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা শনাক্ত করতে পেরেছে। আর গত ডিসেম্বরে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে যেসব হ্যাকিং হয়েছে তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন 'ব্যক্তিগতভাবে জড়িত' বলে বিশ্বাস করেন গোয়েন্দারা।
এই প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। একইদিন সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনেও নিজেদের মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন তারা। আমেরিকার শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করেন, ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারানোর জন্য রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তা করতে মস্কো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল। এক কংগ্রেসম্যান গোয়েন্দাদের কাছে জানতে চান, তারা পুতিনের উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা দেবেন কিনা। তখন গোয়েন্দারা জানান তারা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেবেন।
পরিপক্ব হোন, ট্রাম্পকে বাইডেন
আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কর্মকা- দেখে ট্রাম্পকে 'পরিপক্ব' হওয়ার পরামর্শ দিলেন জো বাইডেন। উল্লেখ্য, এর আগেও জো বাইডেনের সঙ্গে ট্রাম্পের কখনো মধুর সম্পর্ক ছিল না। নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে ট্রাম্পকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কে জড়ান বাইডেন। এরপর দুজনের বাগযুদ্ধ অনেকবার শিরোনাম হয়েছে। মূলত, আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিং বিষয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আক্রমণ করায় ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাইডেন।
আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর আস্থাশীল না হওয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে বাইডেন বলেন, 'এটা একজন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের জন্য একেবারে কা-জ্ঞানহীনতা।' ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে বাইডেন আরও বলেন, 'গোয়েন্দাদের চেয়ে আপনি বেশি জানেন এমনটা মনে করার অর্থ হচ্ছে- যেন পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও অধ্যাপকের চেয়ে বেশি জানা। আমি বই পড়িনি, আমি শুধু জানি যে আমি জ্ঞান বেশি।' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ট্রাম্পের নিয়মিত আক্রমণাত্মক বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বাইডেন বলেন, 'পরিপক্ব হোন ট্রাম্প, পরিপক্ব হোন। এখন পরিপক্ব হওয়ার সময়। কারণ, আপনি প্রেসিডেন্ট। এটা কিছু করার সময়। আপনার কী আছে, তা দেখান।'
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোয়েন্দা ব্রিফিং
আমেরিকার নির্বাচনে হ্যাকিংয়ে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার ট্রাম্পকে ব্রিফিং দিয়েছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ সপ্তাহে প্রতিবেদনের একটি আনক্লাসিফায়েড ভার্শন (অগোপনীয় সংস্করণ) প্রকাশ করা হবে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এর পরিচালক জেনারেল জেমস ক্ল্যাপার দাবি করেন, 'রুশ প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিনই ডেমোক্রেটিক পার্টির ই-মেইলগুলো হ্যাকিংয়ের আদেশ দিয়েছিলেন। আগামী সপ্তাহেই পুতিনের উদ্দেশ্য কী ছিল তা ব্যাখ্যা করা হবে বলেও জানান ক্ল্যাপার।
যদিও হ্যাকিংয়ে রাশিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন ট্রাম্প। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'রাশিয়া কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন না। আমেরিকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগকে তিনি 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলেও উল্লেখ করেন। গত ডিসেম্বরে গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, হিলারির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সন্দেহমূলক সেইসব হ্যাকিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন পুতিন। কিন্তু পরবর্তীতে তা বিশ্বের কাছে আমেরিকার রাজনীতিকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ওই দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে এনবিসি নিউজ আরও জানায়, পাল্টা জবাবের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপারে তদন্ত জোরালো করেছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা