arbin-musa

প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে ভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী আরমীন মূসা। দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরেও নিয়মিতই প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলা গানকে। অ্যালবাম আর স্ট্রেজ পারফর্মের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে প্লেব্যাকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন। কলকাতার ‘ঈগলের চোখ’ চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। আজ সেই গানটির এক ঝলক আজ রিলিজ পেয়েছে ইউটিউবে। কাকতালীয়ভাবে আজই তার জন্মদিন। খুশির মুহর্তগুলো ভাগাভাগি করলেন  পাঠকদের জন্য। 

জন্মদিনটা কেমন কাটছে?
খুবই ভালো কাটছে। জন্মদিনেও তো কাজের মধ্যেই আছি। ঘাসফড়িংয়ের একটা প্রোগ্রামের রিহার্সেল করছি এখন। আর দেশের চলমান অবস্থায় জন্মদিন সেলিব্রেট করতে চাই আবার চাইও না-এমন দোটার মধ্যে ছিলাম। কেমন জানি লাগছিলো। কিন্তু মিডিয়া কম্যুনিটির এতো মানুষ আমাকে ভালোবাসে যে শেষ পর্যন্ত জন্মদিনটা পালন করতেই হলো। রাত বারোটায় বাসায় হাজির হয়েছিল ভালোলাগার মানুষগুলো। অনেক ভালো লেগেছে সবাইকে পেয়ে। সত্যিই খুব লাকি ফিল করছি। 

এর বাইরে দিনটিকে ঘিরে আলাদা করে কোন প্ল্যান নেই?
নাহ! কাজের মধ্যেই দিনটি কাটিয়ে দিচ্ছি। চাইলেই ছুটি নিতে পারতাম। আমি তো আর নয়টা টু পাঁচটার অফিস করি না। কিন্তু কাজ করতেই ভালো লাগে। আমাদের প্রোগ্রামটা নিয়ে সবাই খুব সিরিয়াস। সেপ্টম্বরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। 

আপনার জন্মদিনেই আপনার গানের ভিডিও রিলিজ পাচ্ছে। নিশ্চয়ই জন্মদিনের আনন্দের মাত্রাটা কয়েক গুণ বেড়েছে?
অবশ্যই। ভীষণ ভালো লাগছে। মজার বিষয় হলো ওরা কিন্তু জানতই না আজ আমার জন্মদিন। পরিচালক অরিন্দম শীল যখন জানালো, আজ গানটা রিলিজ পাচ্ছে তখন আমি বললাম, আজ কিন্তু আমার জন্মদিন! উনি তাৎক্ষনিক উইশ করেছেন। 

অরিন্দম শীলের সিনেমা ‘ঈগলের চোখ’র সঙ্গে আপনার যাত্রা শুরু কিভাবে?
অরিন্দম শীলের মেয়ে আমার ভার্চুয়াল বন্ধু। প্রায় কথা হতো। সে সূত্রেই তার সঙ্গে পরিচয়। উনি আমাকে মাসখানেক আগেই বলছিলেন, আমার নেক্সট ফিল্মে তোমাকে গাইতে হবে। গত এপ্রিলে মার সঙ্গে কলকাতায় গিয়েছিলাম। সেবারই তিনি আমাকে ডেকে বললেন, তোমাকে গান করতে হবে। আমি অবাক। ভেবেছিলাম তার পরবর্তী ফিল্মটা হয়তো বছরখানেক পর। এতো তাড়াতাড়ি তার সঙ্গে কাজ করবো ভাবিনি। 

কাজটা শুরু করলেন কবে?
জুলাইয়ের দুই তারিখে গানটার রেকর্ডিং করেছি। তখন বাংলাদেশে অবস্থা খুব খারাপ ছিলো। সিএনএন দেখে বারবার দেশের আপডেট নিচ্ছিলাম আর কাজটা করেছিলাম। 

গানটি সমন্ধে জানান। 
গানের শিরোনাম ‘রাতের মাঝারে’। লিখেছেন সুজাত গুহ। আর কম্পোজিশন করেছেন বিক্রম ঘোষ। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ। উনার সঙ্গে কাজ করতে পেলে নিজেকে অনেক লাকি মনে করছি। তিনি রবিশঙ্করের মতো গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন। 

কলকাতার সিনেমার গানে এবারই তাহলে প্রথম?
নাহ! এর আগেও একবার গেয়েছিলাম। তবে সে অনেকদিন আগে। আটবছর তো হবেই। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘জিয়োকাকা’ সিনেমায় গেয়েছিলাম। সেবার পরমব্রতই ফোন দিয়েছিলো গানটা করতে। ‘নদী ভরা’ শিরোনামে গানটার কম্প্রোজিশন করেছিলেন নীল দত্ত। 

নেক্সট?
আপাতত প্ল্যান করিনি। আসলে সিনেমার গানগুলো আমি প্ল্যান করে করি না। হুটহাট। সর্বশেষ রনি ভাইয়ের ‘আইসক্রিম’ সিনেমায় গেয়েছিলাম। সেটাও হুট করে। রনি ভাই ফোন দিলেন, আর একটা গান বাকি আছে। তোমার গলা লাগবে। এই রকম মাঝে মাঝে করি আর কি!

৭১-এর সংগ্রাম’ চলচ্চিত্রে আপনাকে যৌথভাবে সঙ্গীত পরিচালনায় দেখা গিয়েছিল। সামনে আরও কোন সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনায় থাকছেন কী না?
‘৭১-এর সংগ্রাম’ সিনেমায় কাজ করার পর কিছুটা সাহস পাচ্ছি। সেই সাহস নিয়েই নতুন একটি সিনেমার মিউজিকের পুরো দায়িত্ব নিচ্ছি। এবার একা। ছবিটির নাম ‘অক্সিজেন’। নির্মাণ করবেন ফাহিম কাদের। ছবিটির কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। ফান্ডিং চলছে। সামনের বছর হয়তো কাজটা শুরু করবো। 

মিউজিক ডিরেকশনটাকে চ্যালেঞ্জিং ভাবছেন কী না?
অবশ্যই। আমি তো বেশিরভাগ সলো গানই করেছি। সেক্ষেত্রে আমার জন্য একটু টাফই হবে। আর অনেক মানুষকে সংগঠিত করার একটি বিষয় থাকে। এটা অবশ্য আমি ইনজয় করি। প্রচুর মানুষের সঙ্গে কাজ করাটা আমার খুব পছন্দের। 

আর অ্যালবাম নিয়ে প্ল্যান করছেন?
গতবছর বন্ধুদের সঙ্গে একটা লাইল অ্যালবাম করেছিলাম। ‘ট্রিবিউট টু কাজী নজরুল ইসলাম, আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। যাদের গান শুনে বড় হয়েছি। ছোটবেলায় তাদের গান গাওয়ার সাহস করিনি। এবার সাহস করে কাজটা শুরু করেছি। গানগুলো বেশ কঠিন। গাইতে খুব কষ্ট হয়েছে। বেশ  ক‘জন কম্পোজারদের সঙ্গে কাজটা করছি। গান রেকর্ডিং ও ভিডিওর কাজ প্রায় শেষ।  এখন অ্যালবামের কাভারের কাজ চলছে। রিলিজ পাবে শিগগিরিই। আর ইংলিশ পোয়েট্রি ও গান নিয়ে একটা কাজ করছি। গান আর কবিতার সঙ্গে মিলিয়ে ভিজ্যুয়াল থাকবে। দুটি শো’ও করেছিলাম। কিন্তু আপাতত আপাতত ঢাকায় ইংলিশ পোয়েস্টি গাওয়ার জায়গা কম। আবার অপশন পেলে অবশ্যই করবো। 

প্রায়ই তো গান নিয়ে দেশের বাইরে যান আপনি। এবার কবে যাচ্ছেন?
এই সপ্তাহেই যাচ্ছি। কলকাতার ‘এক বাঙালি উপাখ্যান’ নামে একটি ব্যান্ডের সঙ্গে গাইবো। ওরা সবাই খুব ট্যালেন্টেড মিউজিশিয়ান। ওখান থেকে সবাইকে নিয়ে একটা অ্যালবাম করছি আমরা।

রাতের মাঝারে:

 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা