শুভশ্রী

ওপার বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলি। দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। ‘প্রেম কি বুঝিনি’ শিরোনামের সিনেমাটি আগামী ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও কলকাতায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

আবদুল আজিজ ও সুদীপ্ত সরকার পরিচালিত রোমান্টিক ঘরানার এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার ওম। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও কলকাতার এস কে মুভিজ।

এ সিনেমার মুক্তিকে সামনে রেখে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসেছিলেন শুভশ্রী।‘প্রেম কি বুঝিনি’ সিনেমাসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ আলাপচারিতার বিশেষ অংশ নিয়ে সাজানো হয়েছে সাক্ষাৎকার।

: বাংলাদেশে এসে কোন বিষয়গুলো আপনার ভালো লেগেছে?
শুভশ্রী : প্রথমত বলব- খাবার বেশি ভালো লেগেছে। ইলিশ মাছ ছাড়া সব খাবারই ভালো লেগেছে। কারণ আমি ইলিশ খাই না। বিশেষ করে মিষ্টি আমার খুব পছন্দ। ঢাকাই এসে আমি প্রথমে মিষ্টি খেয়েছি। রেবেকা দি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন তখন আমি তাকে মিষ্টি নিয়ে যেতে বলেছিলাম। তিনি আমার জন্য মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলেন। এবার মিষ্টি তো খেয়েছি। ভাবছি, নিয়েও যাব। বাংলাদেশে আসব আর মিষ্টি খাব না এটা হতেই পারে না।

: ‘প্রেম কি বুঝিনি’ সিনেমায় এমন কী রয়েছে যা দেখতে বাংলাদেশের দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যাবেন?
শুভশ্রী : সিনেমাটির নাম হলো ‘প্রেম কি বুঝিনি’। এর নামের মধ্যেই প্রেম আছে। আর আমরা সবাই প্রেম করতে ভালোবাসি। প্রেম এমন একটা অনুভূতি যা সব বয়সের মানুষ উপভোগ করেন। এটি একটা প্রেমের সিনেমা। এ ছাড়া পারিবারিক কিছু বিষয়ও রয়েছে। বর্তমানে অনেক বেশি বিচ্ছেদ, ভুল বোঝা-বুঝি, ডিভোর্স হয়। সে কারণে প্রেম করলে, ভালোবাসলে কী করা উচিৎ আর কী করা উচিৎ নয় সে সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের জন্য অনেক টিপসও রয়েছে।

: আপনার অভিনীত একটি সিনেমায় বাংলাদেশে ২০১২ সালে মুক্তি পায়। দীর্ঘ চার বছর পর আপনাকে দ্বিতীয়বারের মতো দর্শক হলে দেখতে পাবেন। বাংলাদেশের দর্শক আপনাকে কীভাবে নিবেন বলে আপনি মনে করছেন?
শুভশ্রী : যখন আমার সিনেমা এই দেশে মুক্তি পায়নি তখনো কিন্তু বাংলাদেশে আমার প্রচুর ফ্যান ছিল। এ দেশের মানুষের ভালোবাসাটা আমার কাছে ভগবানের প্রাপ্তি। জনপ্রিয়তার কথা আমার কাছে পছন্দের নয়, ভালোবাসাটা আমার কাছে প্রিয়। এই ভালোবাসাটা ভগবানের কাছ থেকেই পেয়েছি। আশা করছি, এখানকার দর্শক আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করবেন।

: অধিকাংশ সিনেমাতেই প্রেম থাকে। এ সিনেমায় নতুন কী রয়েছে।
শুভশ্রী : আমার চরিত্রের নাম পারমিতা। পারমিতার জীবনের অনেকগুলো অধ্যায় দেখানো হয়েছে। যখন কলকাতা থেকে লন্ডনে পড়াশোনা করতে যান তখন সে খুব বাচাল, অনেক জানাশোনা একটা মেয়ের ভাব দেখায়। আসলে সে কিছুই জানেন না। ওখানে গিয়ে প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যায়। হঠাৎ করে জীবনে অবনতি ঘটে।

:এর আগে দেব, জিৎতের সঙ্গে কাজ করেছেন। এবার ওমের সঙ্গে প্রথম জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। সেক্ষেত্রে আপনাদের রসায়টা কেমন হয়েছে?
শুভশ্রী : প্রথম তিনদিন আমি ওমকে টর্চার করেছি। আমি ওকে বলেছি, তুমি এসেই প্রথমে আমাকে গুড মর্নিং বলবা। এটা বলার কারণ ছিল- ওকে ফ্রি করে নিয়েছি। আমি অভিনয় করার সময় সহশিল্পীকে ফ্রি করে নিই। এতে করে কাজের রসায়নটা ভালো হয়। আমাদের সিনিয়র জুনিয়রের বিষয়টা দর্শক পর্দায় যেন না বুঝতে পারেন।

:আপনাদের এ জুটিকে দর্শক কীভাবে নিবেন বলে মনে করছেন?
শুভশ্রী : আমি ও ওম ফ্রেস জুটি। নতুন এ জুটিকে দর্শক ভালোভাবে নিবেন বলে আশা করছি।

:বাংলাদেশের মাহি, পরীমনির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আপনি কতটা পেরে উঠবেন বলে মনে করেন?
শুভশ্রী : আমি আসলে কোনো প্রতিযোগিতার মধ্যে নেই। গতকালের আমার সাথে আজকের আমার প্রতিযোগিতা করতেই ভালো লাগে। শুধু বাংলাদেশে নয় কলকাতাতেও আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। পরীমনি, মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া তারা আমার অনেক জুনিয়র। ওরা মাত্র কয়েকটা সিনেমার কাজ করেছে। তাই ওদের সঙ্গে আমার প্রতিযোগিতা হয়ই না। আমি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নই। জন্মসূত্রে ওরা বাংলাদেশি। ওদের জনপ্রিয়তা অবশ্যই এখানে বেশি থাকবে। আর এ দেশে আমার সিনেমা না চলার পরও এখানকার মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। এটাই আমার জন্য বড় পাওয়া।

:গত বছর আপনার কোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে দেখা যায়নি। এ বিরতিটা আপনি কীভাবে দেখছেন?
শুভশ্রী : সারাক্ষণ সিনেমার কাজ করেই যেতে হবে, প্রতিযোগিতা করে যেতে হবে, তা না হলে আমি বিখ্যাত নই এ কথা আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি, যাতে আমার ভালোবাসা থাকবে। যে কাজ করে আমার ভালো লাগবে। সে রকম বিষয় নিয়ে আমি কাজ করতে চাই।
গত বছর আমি কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হইনি। আমার কোনো সিনেমাও মুক্তি পায়নি। শুধু ‘ধূমকেতু’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। আগামী বছরেও যদি আমার কোনো সিনেমা পছন্দ না হয় আমি করব না। যে সিনেমায় আমি কাজ করি সে সিনেমাগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

:সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে সিনেমা নির্মাণ করছে। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
শুভশ্রী : যৌথ প্রযোজনার সিনেমাগুলো দুই দেশের শিল্পী ও কলাকুশলীরা কাজ করে থাকেন। এ সিনেমাগুলো দুই দেশেই মুক্তি পেয়ে থাকে। দুই দেশের দর্শক দুই দেশের শিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। এ বিষয়টি আমি অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখছি। এটা একটি গ্রেট প্ল্যান।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / গোলাম সারোয়ার

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা