image-39242

প্রান্তসীমায় আসা বছরের শেষ সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের আতিথেয়তা নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এক মাসের সফরের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় দশ দিনের ক্যাম্প করবে টাইগাররা। সে লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকা ছেড়েছে জাতীয় দলের প্রথম বহর। বিপিএল শেষে আজ বাকি খেলোয়াড়রা যাত্রা করবেন। সিডনির বিমানে চড়ার আগে অস্ট্রেলিয়া ক্যাম্প, সফরের লক্ষ্য, নতুনদের আগমন, পেসারদের ইনজুরিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সীমিত ওভারের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। গণমাধ্যমকে বলা তার কথাগুলোর চৌম্বক অংশ সাক্ষাৎকার আকারে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

 

নিউজিল্যান্ড সিরিজ কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?

সত্যিকার অর্থে, আমরা শেষ বছর প্রায় সব ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলেছি। অধিকাংশও ম্যাচও জিতেছি। এক-দুই বছর আগে এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল। আল্লাহর রহমতে ৮০ ভাগ ম্যাচ জিতে ওই জায়গায় সফলতা পেয়েছি। দেশের বাইরে খেলতে হবে বিধায় এখন চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। আমাদের তো বটেই, প্রতিষ্ঠিত দলের জন্যও এটা বড় চ্যালেঞ্জ। ওখানকার আবহাওয়া অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো নয়। আমার মনে হয় সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ আসছে। কন্ডিশন ভিন্ন হলেও আমরা যেভাবে খেলে আসছি সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে ওখানে খেলতে পারলে ভালো ফল আসবে।

নিউজিল্যান্ড সিরিজে আপনাদের লক্ষ্য কী থাকবে?

একটা ভালো দল কিংবা আপকামিং দল তাদের হোমে অধিকাংশ ম্যাচ জেতে। কিছু ম্যাচ হয়তো বাইরে জেতে। তখন দলটার জন্য ভালো একটা বছর হিসেবে গণ্য করা হয়। পয়েন্টের গ্রাফটাও আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। আমাদেরও লক্ষ্য ছিল যেন দুই বছরে অধিকাংশ ম্যাচ জিততে পারি। নিউজিল্যান্ড যখন এখানে আসবে তখন তাদের জন্য এটা কঠিন। আবার আমরা যখন যাব তখন আমাদের জন্যও কঠিন। সব কিছুই আলাদা। তারপরও আমরা বেশির ভাগ ম্যাচ জিততে চাইব। এটা বলা এবং করা দুটোই কঠিন। চেষ্টা করব ওখানে অ্যাডজাস্ট করে নিতে। এখনো আমরা নতুন, ওই পরিস্থিতিতেও তাই থাকব। তবে আমাদের মাইন্ড সেটআপটা ভিন্ন। আগের মতো নেই। কারণ যেখাইে আমরা খেলি সেখানেই জয়টাই প্রত্যাশা থাকে মানুষের। সেটা হিসাব করেই আমরা ভালো কিছুর চেষ্টা করব।

নিউজিল্যান্ডের মাঠে জয় সম্ভব কি না?

এটা আসলে বলা খুব কঠিন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের হারানো অনেক কঠিন। অনেক বড় বড় দলও পারে না। তবে এটা বলছি না যে, আমরাও পারব না। ভালো খেলতে পারলে সম্ভব। কিন্তু এটাও ঠিক, কাজট অনেক কঠিন।

অস্ট্রেলিয়া ক্যাম্প ও প্রস্তুতি ম্যাচ কতটা সহায়ক হতে পারে?

ওখানে কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে। পুরো দল একসঙ্গে থাকব পরিবারের মতোই। একসঙ্গে অনুশীলন হবে, কার কী সমস্যা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারব। ইতিবাচক জিনিসগুলোর আলোচনা হবে। ২০১৫ সালের আগে ১৫ দিনের একটা ক্যাম্প হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। ওটা আমাদের কাজে দিয়েছে। একমাত্র অনুশীলন ম্যাচে আমরা হেরেছিলাম। শেষ বিশ্বকাপেও আমরা চিটাগং ও খুলনাতে ক্যাম্প করেছি। হয়তো কন্ডিশন ভিন্ন ছিল। ফলাফল আমরা প্রথম রাউন্ডে ভালো খেলেছি, দ্বিতীয় রাউন্ডেও সুযোগ ছিল। কন্ডিশন যেমনই হোক, আশা করছি এই ক্যাম্পটাও কাজ করবে।

পেসারদের ইনজুরি দলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?

ইনজুরি নির্দিষ্ট খেলোয়াড় কিংবা কিংবা দলের জন্য সব সময়ই খারাপ। এখন প্রায়ই শুনি যে আমাদের ব্যাকআপ প্লেয়ার অনেক। কিন্তু আমার চোখে কোনো ব্যাকআপ প্লেয়ার নেই। কারণ সাকিব-তামিমের রিপ্লেস করাটা কঠিন। তবে ব্যাকআপ খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে। ওই পর্যায়ে আসতে হয়তো একটু সময় লাগবে। শফিউল অনেক ভালো ফর্মে ছিল। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য দুঃসংবাদ। এই অবস্থায় যারা ফর্মে আছে তাদের ইনজুরিগুলো অবশ্যই দলে প্রভাব ফেলে। মুস্তাফিজকে দেখেন, ইংল্যান্ড সিরিজে ওকে না পাওয়ায় আমাদের কিছু না কিছু ক্ষতি হয়েছে। কাজেই সেরা খেলোয়াড়দের ঠিক থাকাটা জরুরি। আলহামদুলিল্লাহ মুস্তাফিজ এখনো ফিটের পথে আছে। ওর অবস্থা পুরোপুরি জানি না। তবে ও পুরোপুরি বোলিং শুরু করেছে। কালও ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। হাতে এখনো কিছু সময় আছে। যেটাই হোক সমন্বয় করে নিতে হবে।

মেহেদী মারুফের অস্ট্রেলিয়া যাত্রা ও নাজমুল হাসান শান্তর অন্তর্ভুক্তিটা কীভাবে দেখছেন?

এটা টেকনিক্যাল ব্যাপার। যারা ওদের দলে নিয়েছেন তারা ভালো বলতে পারবেন, কোচই ভালো জানেন। তবে বিপিএল দিয়ে একটা খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করা কঠিন। নাজমুল খুব উন্নতি করছে। ওর মধ্যে অন্য রকম একটা স্পিড আছে। এটা ধারাবাহিক করতে পারলে ও ভালো খেলোয়াড় হতে পারবে। সত্যি কথা বলতে আমি যে কজন তরুণ খেলোয়াড় দেখেছি, তাদের মধ্যে ওকে সবচেয়ে প্রমিজিং মনে হয়েছে। তবে মারুফের সঙ্গে আমি কখনো খেলিনি। কিন্তু বিপিএলে ও অনেক ভালো খেলছে। সে হিসেবে ও যাচ্ছে। আশা করছি ওখানে গিয়ে ও ভালো করতে পারবে।

সৌম্য সরকারের ফর্মহীনতা এবং সাকিবের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে না পারা—এসব নিয়ে ভাবছেন কি না?

সত্যি কথা বলতে সাকিব বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটার। সব সময় ওর কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকে। যেটা সব সময় করা কঠিন। কারণ ওর ওপর সব ধরনের চাপ থেকে। তা ছাড়া এখন এখন একটা দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যেটা বিপিএলের সবচেয়ে বড় দল। সেটার ফল নিয়ে একটা চাপ। কিন্তু সাকিব সবসময়, সঠিক সময়ে নিজেকে প্রমাণ করেছে। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে ও সব সময়ই সেরা। আমার বিশ্বাস নিউজিল্যান্ডে ও কামব্যাক করবে। সৌম্য গত দেড় বছর ধরে কোনো ফরম্যাটেই রান করতে পারেনি। একটা বড় রানের ইনিংস ওর পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে টেস্টে প্রত্যাবর্তন করছেন?

আমার কাছে মনে হয় যে জিরো পারসেন্ট। প্রথমত, সবকিছুরই একটা বিষয় থাকে যে আমার কিছু চারদিনের ম্যাচ খেলা উচিত। এই অবস্থায় কাউকে না কাউকে প্রমাণ করতে হয়। সেটা না হওয়া পর্যন্ত আমি বলতে পারি না যে খেলতে চাই। সেটাও হয়তো বা অন্যায় হবে।

দলে অভিজ্ঞ এবং নতুনদের সমন্বয় কতটা কঠিন হবে?

সবসময়ই দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একটা প্রভাব থাকে। চেষ্টা করব নতুনদের যেন সিনিয়ররা সহায়তা করতে পারে। এখানে অনেক সমর্থন থাকে। সে ক্ষেত্রে জুনিয়ররা সুযোগ পেলে মানিয়ে নিতে পারে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা