Secratary

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭: প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক/মাইক্রোবিড্স এর ভয়াবহতা এবং দূষণ সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো ”কম্ব্যাটিং দ্য পল্যুশন থ্রেট ফ্রম মাইক্রোপ্লাস্টিক লিটার টু সেভ মেরিন হেলথ ইন দ্য বে অব বেঙ্গল” বিষয়ক এক কর্মশালার আয়োজন করে। আজ দুপুর ১২টায় ধানমন্ডির ফোর সিজন্স রেস্টুরেন্ট এ আয়োজন করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও এসডোর চেয়ারপার্সন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, এসডোর গবেষণার তথ্য অনুযায়ী পণ্য সামগ্রীতে মাইক্রোবিড্স ব্যবহারের কোন উপকারীতা পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে সবাইকে সঠিক তথ্য সর্ম্পকে অবগত হতে আহবান জানান।

এসডোর চেয়ারপার্সন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, মো: জিয়াউল হক এবং প্যানেলিস্ট ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মাহমুদ হাসান খান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডঃ আবু জাফর মাহমুদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডঃ মো: আবুল হাশেম এবং বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ নাজমুল আহ্সান কলিমুল্লাহ। কর্মশালায় স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সরকারি প্রতিনিধি, স্টেকহোল্ডার, শিক্ষাবিদ, বিউটিশিয়ানসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্লাস্টিক দূষণ বিশ^ব্যাপী উদ্ব্যেগের একটি বিশেষ কারণ। সামগ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যরে এক বিশাল অংশীদার হল নিত্য ব্যবহার্য পণ্য ও প্রসাধনী তে ব্যবহৃত মাইক্রোবিড্স (প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থের অতি ক্ষুদ্র কণা)। ফেসওয়াশ, ফেশিয়াল স্ক্রাব, টুথপেস্ট সহ বিবিধ পন্য সামগ্রীতে মাইক্রোবিড্স বা মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ একেবারেই নতুন একটি বিষয় এবং নির্মাতা ও ভোক্তা কেউই মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং মাইক্রোবিডের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নয়। এসডোর গবেষণার তথ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে ঢাকা, চট্্রগ্রাম ও সিলেট শহর থেকে যথাক্রমে ৬৬২৮.৪৬, ১০৮৭.১৮ ও ২১২.৩৮ বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক এদেশের নদী, খাল বিল ও জলাশয়ে গিয়ে জমা হচ্ছে যার ফলে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়বেটিস, ক্যানসার ইত্যাদি ভয়াবহ রোগ দেহে বাসা বাঁধতে পারে। একই সাথে সামুদ্রিক জৈব দূষণকারী হিসেবেও কাজ করে।

সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের মতে মাইক্রোবিড হল ১মিলিমিটার এর চেয়েও ক্ষুদ্র গোলাকার আকৃতির প্লাস্টিক কণা। এতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপাদান সমূহ সাধারণত পলিথিলিইন (পিই), পলিমিথাইল মেথ্যাক্রিলেটে (পি.এম.এম.এ), নাইলন,পলিইথিলিন টেরাফ্যাথালেট (পি.ই.টি) এবং পলিপ্রোপাইলিন (পি.পি)। এই কণাগুলো এতটাই সুক্ষ যে সুয়েজ ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এটি নির্মূল করা সম্ভব হয় না। মাছেরা এটিকে তাদের খাবার মনে করে খেয়ে ফেলে এবং এর মাধ্যমে এক সময় এটি মানব দেহে পৌঁছায়। আকারে অতন্ত্য ছোট হওয়ায় এর পৃষ্ঠতল বড় যেখানে দূষিত পদার্থ জমা হয়। তাই এটি প্রানী দেহে প্রবেশ করলে লিভার, অন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। প্রসাধণসামগ্রী ও টুথপেস্টে ব্যবহৃত মাইক্রোবিড ত্বক ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

মো: জিয়াউল হক বলেন, বিশ^ব্যাপী প্লাস্টিক বিরোধী প্রচারাভিযান ব্যাপকভাবে শুরু হলেও বাংলাদেশে তা এতদূর অগ্রসর হয়নি। মাইক্রোপ্লাস্টিক যুক্ত পণ্যগুলি শনাক্ত করে এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। এসডোর মহাসচিব ইকোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, জলজ প্রানী মাইক্রোবিডকে তাদের খাদ্য মনে করে প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করছে যেগুলো পুনরায় মানুষের দেহে হিসেবে প্রবেশ করছে। এইভাবে মাইক্রোবিড বিভিন্ন জলজ প্রানী হতে খাদচক্রের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। এসডোর নির্বাহী পরিচালক, সিদ্দীকা সুলতানা, দৈনন্দিন ব্যবহার্য্য এসব পণ্যে মাইক্রোবিড্স এর ব্যবহার নিষিদ্ধের আইন প্রণয়নে জোর দেন। এসডোর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কি পরিমাণ প্লাস্টিক আবর্জনা আমাদের নদী, জলাশয় ও সমুদ্রে জমা হচ্ছে এবং জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদকূল কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা বাংলাদেশের সরকার ও সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আর্কষণ করে মাইক্রোবিড নিষিদ্ধের দাবী জানিয়েছেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাইক্রোবিডযুক্ত পণ্য এর উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার জন্য আইন প্রণয়নের উপর জোর দেন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা