mejho-sontan

পরিবারের মেঝ সন্তান বেশীরভাগ সময়ই অন্য সবার চেয়ে আলাদা হয়ে থাকে।আর এই নিয়ে বাবা মার দুশ্চিন্তার সীমা থাকে না।পরিবারের মেঝ সন্তানকে হতে দেখা যায় স্বাধীনচেতা, আত্মনির্ভরশীল এবং একেবারে আলাদা মনমানসিকতার মানুষ। কিন্তু সত্যিকার অর্থে পরিবারের মেজ সন্তানটি হয়ে থাকে সবচাইতে ভালো মনের মানুষ। 

পরিবারের বড় সন্তানেরা অনেক বেশি আত্মত্যাগী ও ছোটরা উড়নচণ্ডী ধরণের হয়ে থাকে বলেন অনেকেরই বিশ্বাস। কিন্তু মেঝজনের বৈশিষ্ট্য কিন্তু সহজে চোখে পড়ে না। তারা কতটা চিন্তা করে চলেও তাও অনেকে বুঝতে পারে না। আর তাদের এই ধরণের চিন্তাই তাদের করে তোলে একেবারে আলাদা ও ভালো মানসিকতার। 

১) মেঝ ছেলেমেয়েরা সম্পর্কের মূল্য অনেক বেশি ভালো বুঝে থাকেন
বড় এবং ছোটদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তাদের সঙ্গে কীভাবে চললে সম্পর্ক অনেক বেশি ভালো থাকে তা মেঝরাই ভালো বুঝে থাকেন। কারণ তিনি তার বড় ভাই-বোনের কোনও ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে থাকলে নিজের ছোটোজনের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা বুঝে যান।
তিনি নিজের বড় কারও সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করবেন সেটাই তিনি তার ছোটজনের কাছ থেকে ফিরে পাবেন ভেবে তাও নিজে থেকেই শিখে নেন। এই দুটি বিষয় কিন্তু পরিবারের বড় এবং ছোটো সন্তানেরা এভাবে ভাবতে পারে না।

২) আত্মনির্ভরশীল মানুষ হয়ে গড়ে উঠেন বাবা-মায়ের মেঝ সন্তান
বড় সন্তানের প্রতি বাবা মায়ের আলাদা একধরণের টান থাকেই কারণ তিনি প্রথম সন্তান। এবং ছোটো সন্তান পরিবারের সকলের আদরের সন্তান হিসেবেই মানুষ হয়ে থাকেন। কিন্তু সত্যি বলতে কি, বাবা-মা সন্তানদের মধ্যে পার্থক্য না করলেও বড় ও ছোটো সন্তানকে যেভাবে সময় দিয়ে থাকেন তা মেঝ সন্তানকে দিতে পারেন না অনেক সময়েই। আর সে কারণেই পরিবারের মেঝ সন্তানেরা অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠে। 

৩) সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারার ভালো গুনটি থাকে মেঝ সন্তানদের মধ্যেই
বুঝতে পারার বয়স থেকে বড় ও ছোটো ভাইবোনের সঙ্গে কীভাবে মিশতে হবে তা সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই শিখে নেন মেঝজন। আর সে কারণেই ছোটোবড় সকলের সঙ্গেই বেশ ভালো করে মিশতে পারার একটি গুণ তৈরি হয়ে যায়, যা পরিবারের বড় ও ছোটো সন্তানের মধ্যে খুব বেশি দেখা যায় না। একারণে আত্মীয়স্বজন থেকে সকলেই মেঝ সন্তানটিকে বেশ পছন্দ করে ফেলেন। 

৪) ছোটো-বড় সকলকেই সঠিক মূল্যায়নে পরিচালনা করতে পারেন মেঝরাই
কাকে কী বলে, কীভাবে চালানো সম্ভব এই গুণটিও পরিবারের বড় ও ছোটো ভাইবোনের মধ্যে থাকতে থাকতে রপ্ত হয়ে যায় পরিবারের মেঝ সন্তানের। এতে করে বাইরের জগতেও কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলে তাকে পরিচালনা করা সম্ভব তা তৈরি হয় নিজে থেকেই।

৫) মেঝ সন্তানেরা অনেক বেশি সৃজনশীল হয়ে থাকেন
বড় ও ছোটো সন্তানদের তুলনায় মেঝ সন্তানটি অনেক বেশি সৃজনশীল হয়ে থাকেন। তাদের চিন্তাভাবনা অন্য সকলের থেকে একটু আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে। দেখা যায় বড় বা ছোটো ভাই বোন স্বাভাবিক নিয়মে জীবনযাপন করে বেশ বড় স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কাজ করছেন কিন্তু মেঝজন নিজের সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের নিয়মে চলছেন। অবশ্য একারণে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা কারণ হতে দেখা যায় পরিবারের মেঝ সন্তানকে।

 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা