hormonnnnn

আপনি কি প্রেমে পড়েছেন? কিংবা দারুণ খুশি বা আপনার কি ভীষণ মন খারাপ? যেটাই হোক না কেন, আপনার সেই অনুভূতিটাকে কিন্তু পরিচালিত করছে হরমোন নামক এক ধরনের জৈবিক পদার্থ৷ জেনে নিন শরীর এবং মনে হরমোনের নানারকম ভূমিকার কথা৷

প্রেমে হাবুডুবু

 

প্রথম প্রেমে পড়ার অনুভূতি কে না জানে? অকারণেই হেসে ওঠা, ভালো লাগা, প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানোর সুখ বা আনন্দে রক্তচাপ যেন বেড়ে যায়৷ সব মিলিয়ে এক অসম্ভব ভালো লাগার অনুভূতি! ‘এন্ডরফিন’ হরমোন মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রে সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণেই মুহূর্তগুলো এত মধুর মনে হয়, ছড়িয়ে দেয় ভালোলাগার অনুভূতি৷ এমনকি প্রেমে পড়ার সময়টাতে নাকি শরীরে ভীষণ ব্যথা পেলেও, প্রথম প্রথম তা টেরই পাওয়া যায় না৷

শিশু থেকে বড় হওয়া

শরীরের ‘সোমাট্রপিন’ বা গ্রোথ হরমোনই শিশুদের আস্তে আস্তে বড় হতে ও বুদ্ধি বাড়তে সাহায্য করে থাকে৷ শরীরের হাড় গঠন এবং প্রোটিন এবং জরুরি চর্বি তৈরিতেও কাজ দেয় এই হরমোন৷ তবে যদি কোনও শিশুর শরীরে এই হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে, তাহলে তারা অতিরিক্ত বেশি বড়সড় হয়৷ শরীরে হরমোন তৈরির প্রধান কেন্দ্র মস্তিস্ক থেকেই নিঃসৃত হয় এই হরমোন৷

বাইরে থেকে ‘ইনসুলিন’

শরীরে খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া বা বিপাকের জন্য ‘ইনসুলিন’ হরমোনটি দায়ী৷ এটি পেশির কোষগুলোর উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং রক্ত থেকে গ্লুকোজ শোষন করে৷ ডায়বেটিস রোগীর শরীরে যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি না হওয়ার ফলে চিনি রক্তেই থেকে যায়, যে কারণে জীবন বিপন্নও হতে পারে৷ তাই ডায়বেটিস রোগীকে কম পরিমাণে শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার পরমর্শ দেওয়া হয়৷ এতেও কাজ না হলে রোগীকে নিয়মিত বাইরে থেকে ইনসুলিন দিতে হয়৷

দেহঘড়ির জন্য হরমোন

‘মেলাটনিন’ হরমোন আমাদের শরীরে দিন এবং রাতের একটা ভারসাম্য বজায় রাখে৷ এই হরমোনই অন্ধকারে শরীরের ভেতর ছড়িয়ে যায় এবং আমাদের ক্লান্ত করে ঘুম পাড়িয়ে দেয়৷ ইউরোপীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে জানিয়েছিল যে, মেলাটনিন হরমোন ‘জেটল্যাগ’ উপশম করতে খাদ্যের বিকল্প হিসেবেও কাজ করতে পারে৷ এই হরমোন ঘুম পাড়াতে এবং ঘুম থেকে জাগাতে সাহায্য করে৷

‘স্ট্রেস’ হরমোন

‘কর্টিসল’ হরমোন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রেস হরমোন, যা শরীর থেকে রাতে উৎপাদিত হয়ে দিনে কাজে লাগে৷ এই হরমোন মন ও শরীরের ‘ইমিউন সিস্টেম’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে, যা কোনো ‘ইনফেকশন’ বা ক্ষতের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে থাকে৷ তবে অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক৷

যে হরমোন আমাদের আনন্দ দেয়

মন খারাপ? মন ভালো করতে জিমে যাবেন নাকি একটু মিষ্টি বা চকলেট খাবেন? আপনার শরীরের ‘সেরটোনিন’ হরমোনকে উজ্জীবিত করতে এই দুটোর একটাকে বেছে নিতে হবে৷ সেরটোনিন এবং ডোপামিন হরমোনকেও কিন্তু ‘হ্যাপিনেস হরমোন’ বা সুখ হরমোন বলা হয়ে থাকে, যা আমাদের মন-মেজাজ ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে৷ লক্ষ্য রাখবেন, শরীরে সুখ হরমোন কম হলে মেজাজ কিন্তু বিগড়ে যেতে পারে!



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা