jongi_un

ঢাকার কল্যাণপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন নয় জঙ্গীর সাত জনের পরিচয় মিলেছে।নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে তাদের পরিচয় খুঁজে বের করেছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের এক ওয়েবসাইটে এই সাত জনের বিস্তারিত পরিচয় এবং ঠিকানা প্রকাশ করেছে।

পরিচয় খুঁজে বের করা এই সন্দেহভাজন সাত জঙ্গী হচ্ছে: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার আবদুল্লাহ, পটুয়াখালীর কুয়াকাটার আবু হাকিম নাঈম, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার তাজ উল হক রাশিক, ঢাকার গুলশানের আকিফুজ্জামান খান, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাজাদ রউফ অর্ক, সাতক্ষীরার তালা থানার মতিয়ার রহমান, এবং নোয়াখালির সুধারাম থানার জোবায়ের হোসেন।

উল্লেখ্য এর আগে বলা হচ্ছিল কল্যাণপুরে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গীদের মধ্যে তাদের কোন ছেলে আছে কিনা, তিনটি পরিবার তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান বিবিসিকে জানান, নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত ডাটাবেজের সঙ্গে তারা নিহত নয় জনের আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে দেখেছেন। সেভাবেই এই সাত জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে দুজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

এর আগে পুলিশের সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছিল, পত্রিকায় এবং টেলিভিশনে লাশের ছবি দেখার পর তিনটি পরিবারের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ হয়েছে। এই তিন পরিবারের সন্দেহ, তাদের নিখোঁজ ছেলেরা হয়তো কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গীদের মধ্যে থাকতে পারে।

যে তিন জনের নাম নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে জল্পনা চলছে তারা হচ্ছে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ছাত্র সাজাদ রউফ অর্ক, নোয়াখালি সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জোবায়ের হোসেন এবং চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাব্বিরুল হক কনিক।

উপ পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, এর মধ্যে সাজাদ রউফ অর্ক এবং জোবায়ের হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সাব্বিরুল হক কনিকের ব্যাপারটি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সাব্বিরুল হক কনিকের বাবা চট্টগ্রামের আনোয়ারার একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানান, আজিজুল হক ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং একটি লাশের ছবির সঙ্গে তার ছেলের চেহারার মিল আছে বলে সন্দেহ করছেন। তবে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

“তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। উনি ছবির সঙ্গে তার ছেলের চেহারার কিছু মিল দেখতে পাচ্ছেন। তাকে আমরা লাশের আরও ছবি দেখিয়েছি। কারণ পত্রিকায় ছাপা ছবির প্রিন্ট ছোট, তাই বোঝা যায় না। কনিকের বাবা বলেছেন, তিনি এখনো নিশ্চিত নন যে এটি তার ছেলে। কারণ চোখ, চুল এবং আরও কিছু বিষয়ে অমিল দেখছেন তিনি।”

পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানান, লাশ সরাসরি দেখতে ঢাকায় যাচ্ছেন আজিজুল হক।গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাড়ি থেকে এক দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে পাঁচশো টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন সাব্বিরুল হক কনিক। তার পর থেকে নিখোঁজ আছেন তিনি।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেজাদ রউফ অর্কের বাবা তৌহিদ রউফ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন লাশ সনাক্ত করতে। সূত্র: বিবিসি বাংলা



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / সারোয়ার জাহান

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা