NIA_un

ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রাক্কালে বুধবার বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক একেএম শহীদুল হকের নেতৃত্বে সে দেশের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-র সদর দফতর পরিদর্শন করেছেন।
 
ভারতে ইসলামিক স্টেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যাবতীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এনআইএ, সেই সংস্থার সদর দফরে বাংলাদেশের পুলিশ-প্রধান ও অন্য কর্মকর্তাদের সফরকে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
 
এই সব সংগঠন ভারত-সহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় কীভাবে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে, তা নিয়ে এনআইএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শহীদুল হকের আলোচনা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
 
এদিকে জঙ্গী সমস্যার মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ বহুদিন ধরেই একসঙ্গে লড়ার কথা বলছে – দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রাক্কালে সেই সহযোগিতাকে একটা অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে দুতরফ থেকেই।
 
এনআইএ-র কর্মকর্তারা যেমন বিবিসিকে বলেছেন, এতদিন দুদেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হয়ে এসেছে – এখন সেটাকে পরের ধাপে উন্নীত করার সময় এসেছে বলেই তারা মনে করছেন।
 
‘‘যেমন ধরুন, দুদেশের গোয়েন্দারা প্রয়োজনে যাতে যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে পারেন বা একটি কমন ডেটাবেস থেকে তথ্য অ্যাক্মেস করতে পারেন সেগুলোও এখন নিশ্চিত করা দরকার’’, বলছেন এনআইএ-র একটি সূত্র।
 
এদিকে প্রায় সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে প্রথম মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা – দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম।
 
কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, এই বৈঠক হচ্ছে গুলশান ও শোলাকিয়াতে জোড়া জঙ্গী-হামরার ঠিক পর পরই, এবং এই বৈঠকে জঙ্গীবাদ দমনই যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
 
বৃহস্পতিবার বিকেল চারটেয় দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় নর্থ ব্লকে দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে মিলিত হচ্ছে।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ছাড়াও ভারতের প্রতিনিধিদলে থাকবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিএসএফ, ভারতের নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো ও কোস্ট গার্ডের প্রধানরাও।
 
উল্টোদিকে বাংলাদেশ দলে আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে আরও থাকছেন দেশের পুলিশ-প্রধান একেএম শহীদুল হক, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, কোস্ট গার্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, নারকোটিকস কন্ট্রোল (মাদক নিয়ন্ত্রণ) বিভাগের ডিজি খন্দকার রকিবুল রহমান-সহ আরও অনেকে। সূত্র: বিবিসি বাংলা


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / সারোয়ার জাহান

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা