আবু সাঈদ

দেশের বুদ্ধিজীবীরা ‘পথ হারিয়েছেন’ বলে সমাজে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

‘সমাজ-রাজনীতিতে ইতি ও নেতি’ শীর্ষক এই স্মারক বক্তৃতায় দৈনিক সমকালের উপ সম্পাদক সাঈদ খান বলেন, “বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় অংশ পদ, খেতাব কিংবা বৈষয়িক মোহে অন্ধ। প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে তোষামোদিতে দক্ষ হয়েছেন। এ কারণে এক সময় জাতিকে পথ দেখানো বুদ্ধিজীবীরা আজ নিজেরাই অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছেন।”

বর্তমানে সমাজের মূল সমস্যা রাজনীতিতে বলে মনে করেন এই সাংবাদিক।

তিনি বলেন, “রাজনীতিতে চরম অবক্ষয় চলছে। প্রচলিত ধারার দলগুলোয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সাবেক সামরিক বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ী ও ভুঁইফোড় রাজনীতিবিদদের প্রভাব বেড়েছে। রাজনীতিতে দৃর্বৃত্তায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ বেড়েছে।”

স্মারক বক্তৃতায় সাঈদ খান বলেন, “সব দলই ক্ষমতায় এলে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠে। রাজপথে থাকলে গণতন্ত্রের কথা বলে। আবার ক্ষমতায় গেলে তা ভুলে যায়।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও সুশাসনের অভাব থাকলেও সমস্যার মূল আরও গভীরে। সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একাত্তরে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তার মধ্য দিয়ে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা পরাজিত হয়েছিল। ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।কিন্তু স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ধর্ম নিরপেক্ষতা সংবিধানের বাইরে চলে গিয়েছিল। এটি এখন সংবিধান বন্দি।”

 একাত্তরের পথই মুক্তির পথ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশ হাঁটবে একাত্তরের পথে, তবে এ পথে বহু বাধা। এ বাধা ভাঙতে দরকার একাত্তরের চেতনায় গণজাগরণ ও তারুণ্যের উত্থান।”

শনিবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্বে অশান্তির জন্য পুঁজিবাদের বিস্তারকে দায়ী করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, “পুঁজিবাদের বিস্তার কতটা অমানবিক হতে পারে মিয়ানমারের ঘটনা তারই প্রমাণ।সেখানে নারী-পুরুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।

“পুঁজিবাদী ব্যবস্থা কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, কত অমানবিক হতে পারে তারই সামগ্রিক ছবি আমরা ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে দেখতে পাই।”

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ম ইনামুল হক।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / এমআরআর

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা