ec

বর্তমান সরকারের মেয়দ শেষ হওয়ার আগেই কি আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে এ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যখন বিপরীধমুখী অবস্থানে অনড় তখন হঠাৎ করেই আগাম নির্বাচনের কথা আলোচনায় এসেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা এই আলোচনার সূত্রপাত ঘটালেও এই আলোচনা এখন বড় দুই দলের নেতাদের মুখেও শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আগামী মাসে হলেও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত।’ তবে, দলটির নেতারা এটাকে আলোচনার প্রেক্ষিতে আলোচনা হিসেবে দাবি করছেন। আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারাও বলছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচন হলেও বিএনপি অংশগহণ করতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচন অবশ্যই একটি সহায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে।’ পাশাপাশি সিইসি ও ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মধ্যে যোগসাজস খোঁজার চেষ্টা করে এর পেছনে ষড়যন্ত্র দেখছেন দলটির কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনীতিতে নানা ধরনের কথা শোনা যাবে। কথার প্রেক্ষিতে নেতারা কথা বলবেন। এগুলো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আগামন নির্বাচন কথা আলোচনায় আসাটাও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।

আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলীর চারজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, আওয়ামী লীগের মত বড় দলের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিই থাকে। এটা নতুন কোন বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে দেশে আগাম নির্বাচনের কোন প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে কি না। এমন কোন পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না। যদি না হয় তাহলে আগাম নির্বাচনের কথা বা চিন্তা আসবে কেন। তাছাড়া বিএনপি সরকারকে আগাম নির্বাচনের জন্য বাধ্য করার মত পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে কি না সেটাও ভাবতে হবে। সেই সক্ষমতা বিএনপির আছে? যদি বিএনপি সেই সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে তাহলে কেন সরকার আগাম নির্বাচন দেবে বা এ নিয়ে ভাববে।

গত বুধবার এই প্রসঙ্গে কথা বলেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। সিইসির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসিয়ে টিয়েরিংক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার চাইলে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আগাম নির্বাচনের জন্য কতটুকু প্রস্তুত সে সম্পর্কে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, সেটা করা যাবে। নির্বাচনের জন্য তো ৯০ দিন সময় থাকে। এটাতো সরকারের ওপর নির্ভর করে আগাম নির্বাচনের বিষয়টা। তারা যদি আগাম নির্বাচনের জন্য বলে, তখন আমরা পারবো।

এর আগে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আগামী মাসে হলেও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো প্রস্তুতি নেবো আগামী মাসে নির্বাচন হলে কিভাবে জিততে পারি। যদি নির্বাচন আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে হয়, তাহলে আমাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি থাকবে না? নির্বাচনের বিষয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তিনি তো বলেন নাই কবে নির্বাচন হবে। আমরা ধরে রাখছি নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। কিন্তু এখন যদি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন তিনি আগাম নির্বাচন দেবেন সেটা তার এখতিয়ার। এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোন কথা হয় নাই। তবে নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত আছি।’

এখন পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই এমন তথ্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী কাফর উল্ল্যাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মত একটা বড় দল সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। নির্বাচনের জন্য দলীয় কার্যক্রমও চলছে। সাম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জরিপ চলছে। এ সব কিছুই নির্বাচনের অংশ। তবে, আগাম নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত নেই, সেটা হবে না।

আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অবশ্য দলটির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা থাকে তাহলে আগাম নির্বাচনেও যেতে প্রস্তুত বিএনপি।
একই মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে আগাম নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো সময়ে নির্বাচন হলে অংশগ্রহণে বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে। তবে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হতে হবে।

এদিকে আগাম নির্বাচন নিয়ে ওবায়দুল কাদের ও সিইসির দেয়া বক্তব্য একই সুরে গাঁথা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি কে এম নূরুল হুদাকে সরকারের সানবাঁধানো পথে না হাঁটার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ওই রাস্তা বড়ই পিচ্ছিল। সিইসিকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, আপনি আওয়ামী সরকারের অশুভ ইচ্ছা পূরণের ‘খাঁচায় বন্দি তোতা পাখি হবেন না।’ বর্তমান সরকারের জাতীয় নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।

রিজভী বলেন, কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। আর সিইসি বলেছেন- সরকার চাইলে আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ইসি।

ওবায়দুল কাদের এবং সিইসির দেয়া বক্তব্য একই সুরে গাঁথা মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এতেই প্রমাণ হয়, সিইসি সরকারের নির্মিত সেই সানবাঁধানো পথেই হাঁটবেন। এসময় সিইসিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, সানবাঁধানো পথে হাটবেন না কেননা তা পিচ্ছিল হয়।

বর্তমান সিইসি আওয়ামী লীগ সরকারের কৃপাধন্য, মন্তব্য করে রিজভী আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সাংবিধানিক ভাবে দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে চাকরি রক্ষার্থে বর্তমান সিইসি অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়টি আমলে নেবেন না।

রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আর বড় বড় বুলির মায়াজাল সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের ঘাতক প্রতিহিংসা পরায়ণ শেখ হাসিনা ও তার সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। কারণ জনগণের ললাটে একটি বিষাক্ত কাঁটার নাম আওয়ামী লীগ। সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ কোনো নীল নকশার ফাঁদে পা দেবে না।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা