Gabtholi

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রা কিংবা উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশ—দুটিরই কেন্দ্রবিন্দু গাবতলী বাস টার্মিনাল। পশুর হাটের জন্যও বিখ্যাত গাবতলী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে গাবতলী। পুরো এলাকাই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। সরু রাস্তার কারণে অলিগলিতে যানবাহন তো দূরের কথা, রিকশা চলাচলেরই সুযোগ নেই। রয়েছে দখল, চাঁদাবাজি, মাদকসহ নানা সংকট। ওয়ার্ডটির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে লিখেছেন আরিফুর রহমান

 

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যাত্রা করে। আবার হাজারো যাত্রী ঢাকায় প্রবেশ করে গাবতলী বাস টার্মিনাল দিয়েই। উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বার বলা হয় গাবতলীকে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাত্রীরা গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার সময় হওয়ার আগের সময়টুকু যাতে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন, সে জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হয় বিশাল এক বিশ্রামাগার। যে বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রীদের জন্য, সে বিশ্রামাগারের দখল এখন টোকাই, ভিক্ষুক, হিজড়া আর মাদকসেবীদের হাতে।

ভয়ে যাত্রীরা বিশ্রামাগারের দিকে পা পর্যন্ত মাড়ান না। কোনো যাত্রী বিশ্রামাগারে বসতে গেলে শুরু হয় বিপত্তি। এ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নজির আছে অসংখ্য। বিশ্রামাগারে বসার জন্য সারি সারি চেয়ার আছে—ফ্যান, টিভিও আছে। এসব আয়োজন যাত্রীদের জন্য হলেও ভোগ করছে মাদকসেবী, টোকাই, ভিক্ষুক আর হিজড়ারা। সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা মিলল, গাবতলী বাস টার্মিনালের বিশ্রামাগারে কয়েকজন হিজড়া একসঙ্গে খোশগল্পে মত্ত। তার পাশে কয়েকজন ভিক্ষুক বসে গল্প করছে। কাউকে দেখা গেল চেয়ারে শুয়ে ঘুমাতে। কয়েকজন মাদকসেবী আর ভবঘুরেও চোখে পড়ল। কোনো যাত্রীকে বিশ্রামাগারে বসতে দেখা গেল না। বিশ্রামাগারের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা জাভেদ আক্তার নামে এক যাত্রীকে বিশ্রামাগারে বসতে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি নিজেই তো দেখতে পারছেন সেখানকার পরিবেশ কেমন। সব গাঁজা সেবনকারী, ভিক্ষুক, টোকাই বসে আছে। সেখানে যাত্রীদের বসার কোনো সুযোগ নেই। ’ এক টিকিট কাউন্টারের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্থানীয় প্রভাবশালী ও পরিবহন মালিকদের ছত্রচ্ছায়ায় বিশ্রামাগারে এসব চলছে। তাদের বলার সাহস কারো নেই। পরিবহন মালিক আর স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিশ্রামগারে গাঁজা-ইয়াবা বেচা-কেনা চলে প্রকাশ্যে। সূর্য পশ্চিম আকাশের দিকে হেলে পড়লে শুরু হয় মাদক বেচা-কেনা। বিশ্রামাগারে বসেও মাদকসেবন চলে। গভীর রাত পর্যন্ত এসব চলতে থাকে। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও এ বিষয়ে জোর কোনো তত্পরতার কথা শোনা যায়নি।

 

 

আছে মাদকের সমস্যা

গাবতলী এলাকায় আছে বেশ কয়েকটি বস্তি। অপেক্ষাকৃত নিম্নবিত্তদের বসবাস এই ওয়ার্ডে। বংশী নদ আর তুরাগ নদ একসঙ্গে মিলিত হয়েছে গাবতলী-আমিনবাজার সেতুর পাশে। এলাকাটি নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ পছন্দের রুট হিসেবে পরিচিত। এলাকায় বস্তি থাকায় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড। নৌপথ ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ীরা তা ছড়িয়ে দেয় ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে। এই মাদকের টাকা জোগাড়ে করা হয় চাঁদাবাজি ও ছিনতাই। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। প্রকাশ্যেই মাদক সেবনের কথাও বলেছেন এলাকাবাসী। আর এর পেছনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুটিকয়েক সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী ও পরিবহন মালিকরা জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাদকের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছোট দিয়াবাড়ী, গাবতলী আর ডিনএনডি বাঁধে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানও পরিচালনা করা হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কোটবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুক আলী জানান, ‘৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা মাদক। পুরো এলাকা মাদকে ছেয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে উদ্ধার করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ঘিঞ্জি। মূল রাস্তা পেরিয়ে অলিগলিতে মানুষ ছাড়া আর কোনো যানবাহন চলতে পারে না। জরুরি কোনো কাজে হেঁটেই যেতে হয়। ড্রেনেজ-ব্যবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। যানজট সমস্যা প্রকট। এখন বর্ষাকাল। তাই নাকে কোনো গন্ধ আসে না। গ্রীষ্মকালে পানির গন্ধে এ এলাকায় তো টিকে থাকাই দায় হয়ে যায়। বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য পানি এসে মিশে নদীর পানিতে। আর এতে পানির গুণগত মান খারাপ হয়ে যায়। তখন নদীর পানিতে গোসলও করা যায় না। আর মাদকের সমস্যা তো আছেই। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা হয় না। ফলে দিন দিন মাদক ব্যবসা এলাকা ছেয়ে গেছে। এটা চলে এখন প্রকাশ্য। ’

উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা