Norail

দীর্ঘদিন ধরেই নড়াইলে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ। ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হওয়ায় তৃণমূলের নেতারা হতাশ। সাংগঠনিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত দলটি। অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্ব নিষ্ক্রিয় থাকায় দলটি নির্জীব। চোখে পড়ার মতো কর্মসূচি নেই দলটির। সম্মেলন আর দলীয় কিছু কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি সরব থাকলেও নেতার সংকট রয়েছে দলটিতে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির একজন সংসদ সদস্য আছেন এ জেলায়।

আওয়ামী লীগ : দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচন থেকেই মূলত জেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল চরমে উঠতে থাকে। ওই নির্বাচনে নড়াইল-১ (সদর উপজেলার একাংশ ও কালিয়া উপজেলা) আসনে দলের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়ন পান ওয়ার্কার্স পার্টির তখনকার সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন কালিয়া পৌরসভার তখনকার মেয়র কবিরুল হক মুক্তি (মুক্তি বিশ্বাস)।

তিনি ওই এলাকার দাপুটে আওয়ামী লীগ নেতা এখলাস উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। ১৯৮৫ সালে এখলাস বিশ্বাস ও তাঁর বড় ছেলে এহসানুল হক টুলু খুন হন।

ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তি বিশ্বাস। আওয়ামী লীগে তাঁর

 সমর্থকদের গ্রুপের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। নির্বাচনী এলাকার ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগে সেই কোন্দল আজও বিদ্যমান। যার প্রভাবে এলাকার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত হয়।

দলের নেতাকর্মীরা জানায়, ২০০৪ সালে জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে আসেন নতুন মুখ সুবাস চন্দ্র বোস। রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা না থাকায় পেশায় আইনজীবী সুবাস বোস দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলুসহ আলাদা গ্রুপ গড়ে তোলেন। এরপর তিনি জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং পরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হন। ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মুক্তি ও সুবাস গ্রুপ আলাদাভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী দেন। ২০১৫ সালে নতুন জেলা কমিটিতে নিজামউদ্দিন খান নিলু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন বাদ দেওয়া হয় জনা বিশেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে, যাদের মধ্যে সাবেক সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক রয়েছেন অন্তত আটজন। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে দুটি গ্রুপ কাজ করে। একদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস বোস ও সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান, অন্যদিকে সংসদ সদস্য মুক্তি ও নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সোহরাব হোসেন বিশ্বাস।

এর আগে ২০১৪ সালে সদর উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজামউদ্দিন খান নিলু। পরের বছর লোহাগড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লিপি খানম পরাজিত হন। আর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সৈয়দ আয়ুব আলী। এসব নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ দলীয় কোন্দল। সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বিজয়ী হওয়ার পর এই গ্রুপটি (মুক্তি-সোহরাব) শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

নেতাকর্মীরা জানায়, বিভিন্ন নির্বাচনে গ্রুপের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণে জেলা কমিটির সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোসসহ কয়েকজন নেতা মুক্তি বিশ্বাস গ্রুপের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলুর শক্তি খর্ব হয়েছে। গত ৩০ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে দুপক্ষের ‘শোডাউন’ তেমনই আভাস দেয়। সর্বশেষ গ্রুপিংয়ের কারণে বিভিন্ন উপজেলায় ১৫ আগস্ট শোক দিবসের কর্মসূচি আলাদাভাবে পালিত হয়েছে।

জেলা কমিটি থেকে বাদ পড়া নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরীফ হুমায়ুন কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের সিনিয়র নেতারা মিলে ইউপি নির্বাচনে যেভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তাতে তৃণমূলের কর্মীরা নেতাদের প্রতি হতাশ, দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে খাটো হয়েছে। ’ আগামী সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন এই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ আয়ুব আলী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও পরাজিত হয়েছেন। দলে গ্রুপিং বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জেলার রাজনীতিতে কোনো গ্রুপ করি না। কিন্তু এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী লোক আমাকে গ্রুপিংয়ের মধ্যে ফেলে দিয়ে জেলা পরিষদে আমাকে ও দলকে পরাজিত করেছে। ’

জেলায় নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির সমকক্ষ কোনো নেতা নেই—সমর্থকরা এমন দাবি করে। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন। দশম জাতীয় সংসদের সদস্য তিনি। দলের কোনো পদে না থাকলেও জেলা কমিটি ছাড়া অধিকাংশ কমিটিতেই তাঁর প্রভাব রয়েছে।

দলে গ্রুপিং বিষয়ে কবিরুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগে গ্রুপিং স্বাধীনতার পর থেকেই। এক সময় মরহুম খন্দকার হাফিজ সাহেব, সাঈদ সাহেব এঁরা একদিকে রাজনীতি করতেন, অন্যদিকে মরহুম এখলাস উদ্দিন, লেফটেন্যান্ট (অব.) মতিয়ার রহমানরা রাজনীতি করতেন। এগুলো নেতৃত্বের গুণাগুণ বিচারে হয়, আদর্শিক কোন্দল নয়। নড়াইলে মুক্তি গ্রুপ বলে আসলে কোনো গ্রুপ নেই। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোসের বিরুদ্ধে প্রচুর ক্ষোভ রয়েছে। সর্বশেষ জেলা কমিটিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ নেতা বাদ পড়ায় এ ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা জানায়।

দলে গ্রুপিং, নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্য ও ত্যাগী নেতাদের কমিটি থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে সুবাস বোস বলেন, ‘গ্রুপিংয়ের রাজনীতি অত্যন্ত ক্ষতিকর, এতে দলের যে ক্ষতি হয় তা পোষানো যায় না। যাঁরা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের অনেকেই রাজনীতি তেমনভাবে করেন না। আমরা কেন্দ্রে অনেকের নাম পাঠিয়েছিলাম, কেন্দ্রও তাঁদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। তাই তাঁরা বাদ পড়েছেন। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি কোনো নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে মনোনয়ন দেইনি। ’

দলের সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু ছাত্রলীগ সভাপতি, যুবলীগ সভাপতি থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তিনি নিজেকে দলে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে দাবি করেন। কেন্দ্রীয় কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দল পরিচালনা করছেন দাবি করে নিলু বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে চলি। আর মুক্তি গ্রুপ চলে নেত্রীর নির্দেশনা ভায়োলেট করে। আমি দলের সঠিক পথেই আছি। ’

বিএনপি : দলটির নেতাকর্মীরা জানায়, কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এ কারণে কয়েকবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। প্রশাসনের চাপে যতটা না, তার চেয়ে বেশি বাধা এসেছে দলের অন্য পক্ষের কাছ থেকে। একপক্ষ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা কেন্দ্র ঘোষিত কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের জন্য কার্যালয়ে সভা করার অনুমতি পেলে অন্যপক্ষ পুলিশকে কোন্দল হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে সতর্ক করে। পুলিশ সেই সুযোগে কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়।

দলের নেতাকর্মীরা জানায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের কিছু কর্মকাণ্ড থাকলেও কয়েকটি নাশকতার মামলা হওয়ায় জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক সবাই এখন চুপচাপ। সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস ঢাকায় থাকেন। জেল খেটেছেন সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র জুলফিকার আলী, বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দলের সদর উপজেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইাসলাম। এর আগে ২০১৩ সালের নভেম্বরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় দলের অর্ধশতাধিক নেতা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সর্বশেষ বিএনপির জেলা কমিটি হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রায় দুই বছর জেলা কার্যালয় খোলাই হয়নি। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি এসে এ স্থবিরতার মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান ও শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল খবীরের নেতৃত্বে যুগ্ম সম্পাদক অশোক কুণ্ডু, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সাইদুজ্জামান আমল, সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাচ্চু, কৃষক দলের সভাপতি ফারুক হোসেন ও যুবদলের একটি বড় অংশ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা শুরু করে। ২০১৫ সালের পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে দলের অন্য পক্ষ। গত বছর জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে দলের কর্মসূচি পালনের জন্য তালা ভেঙে কার্যালয় দখলে নেয় দলের একটি পক্ষ।

জেলার লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির অবস্থা একই রকম। জ্যেষ্ঠ নেতারা হয় পলাতক, না হয় রাজনীতি থেকে দূরে। উপজেলা সভাপতি এলাকায় থাকলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যায় না। সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ঢাকায় ব্যবসা করেন। সাবেক সংসদ সদস্য শরীফ খসরুজ্জামান দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেন না। ফলে নিচের সারির নেতারা নিজ উদ্যোগে বর্তমান সদস্য সংগ্রহ কিংবা জাতীয় কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নেই, আমরা কার সঙ্গে কাজ করব, তেমন নেতাদেরও খুঁজে পাচ্ছি না। সিনিয়র নেতাদের সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নিজেরা কিছু লোকজন নিয়ে ঢাকা থেকে সদস্য ফরম এনে সদস্য সংগ্রহ শুরু করেছি। ’

শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল খবীর বলেন, ‘দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন প্রায় চার বছর নড়াইলে আসেন না। জেলা কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সভাপতির আত্মীয় এবং পছন্দের কয়েক ডজন লোককে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করেন। এমনকি জেলা কমিটির প্রায় ২০ জন ঢাকাতে সভাপতির অফিসের কর্মচারী। সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র থাকাকালীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলেছেন, এসব বাতিল নেতৃত্ব দিয়ে দল চলবে না। ’

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনে মাঠেই আছি। চার মাস জেল খেটেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে আমাকে দুইবার বরখাস্ত করা হয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে, শহরকেন্দ্রিক না হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে দলে সঠিক নেতৃত্ব এলে গতি বাড়বে। ’

জেলা বিএনপির একাংশের নেতৃত্ব দেওয়া দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান বলেন, ‘নেতারা প্রতিপক্ষের ভয়ের অজুহাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন জেলা কমিটি কার্যকর নেই। এতে করে কর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। মান্ধাতার আমলের নেতাদের দিয়ে হবে না। নতুন নেতৃত্ব এলে দল অবশ্যই চাঙ্গা হবে। ’

সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের সিকদার বলেন, ‘সরকারি দলের লোকজন মাঠে নামতে দিচ্ছে না, তাই আমরা বাড়িতে বসে প্রোগ্রাম করছি আর ছবি তুলে পাঠাচ্ছি। ’ দলে আপাতত কোনো গ্রুপিং নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখন নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সবাই ব্যস্ত। নতুন কমিটি হলে আবার দল চাঙ্গা হয়ে যাবে। ’

সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘নড়াইলে নয়, সারা দেশেই বিএনপি দমন-পীড়নের মধ্যে আছে। তাই সারা দেশেই দলের কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা চলছে। ’ মামলার কারণে তিনি নড়াইলে আসেন না এবং দলে গ্রুপিং নেই দাবি করে বলেন, ‘সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক—আমাদের এ তিনজনের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। অন্য কেউ আমাদের বিপক্ষে কিছু বলতে পারে। সেটা বিচ্ছিন্ন ব্যাপার, বড় দলে ওই রকম সমালোচনা থাকবেই। ’

জাতীয় পার্টি : দলটির নেতারা ধীরে ধীরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগে চলে যাওয়ায় নেতৃত্ব সংকট রয়েছে। সাবেক সভাপতি গাজী আশরাফ মারা যাওয়ার পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে দলটি। তবে দলকে চাঙ্গা রেখেছেন জানিয়ে বর্তমান সভাপতি শরীফ মুনীর হোসেন বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে দল কোনো ভূমিকা রাখতে না পারায় নেতাকর্মীরা হতাশ। আমরা নতুন মেরুকরণকে স্বাগত জানাই। ’

ওয়ার্কার্স পার্টি : নড়াইল-২ (লোহাগড়া ও সদরের একাংশ) আসনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলটির একজন সংসদ সদস্য থাকায় জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। তবে দলটিতে দুটি পক্ষ স্পষ্ট। জেলা সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান এ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি দলের গণসংগঠন জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। অন্যপক্ষে দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম আরেকটি গণসংগঠন ক্ষেতমজুর ইউনিয়নেরও নেতৃত্বে আছেন। মূলত রাশেদ খান মেনন ও বিমল বিশ্বাসের প্রভাবে প্রকাশ্যে না হলেও ভেতরে ভেতরে দলে দুটি পক্ষ সক্রিয়।

জাসদ : ধারাবাহিকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে এলেও ১৪ দলীয় জোটে স্থানীয় নেতাদের অনুপস্থিতির কারণে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। সর্বশেষ দলটি বিভক্ত হয়ে যায়। এখন কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার নেতারাসহ জেলা কমিটির একটি বড় অংশ হাসানুল হক ইনুর পক্ষে রয়েছে। অন্য অংশ শরীফ নুরুল আম্বিয়ার পক্ষে। তবে এ অংশটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও সাংগঠনিক রয়েছে।

জামায়াত : প্রকাশ্যে জামায়াতের কর্মকাণ্ড নেই। তবে তারা গোপনে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দলের কর্মকাণ্ড বিষয়ে কথা বলার মতো কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা