আসামী

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সাত বছরের শিশু হত্যা মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেয়া জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, মেয়েটির বাবার সঙ্গে তার কয়েক দিন আগে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এর জের ধরেই যৌন নিপীড়নের পর শিশুটিকে হত্যা করেন তিনি।

 

জানা যায়, রবিবার রাত আটটার দিকে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল দরবার শরীফ গলির সামাদ ভূঁইয়ার ভাড়াটিয়ার বাসা থেকে জারিয়া আক্তার (৭) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সানসেটের উপরে লাল রংয়ের কম্বল দিয়ে লাশটি পেঁচানো ছিল।

পুলিশ জানায়, রবিবার ভোর অনুমান ছয়টার দিকে জারিয়া বাথরুম হতে বের হয়ে ঘরে ফেরার পথে আসামি রফিকুল ইসলাম তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে শিশুটির দুই হাত পা রশি দিয়ে বেঁধে গামছা ও গেঞ্জি মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরবর্তী সময়ে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের মৃতদেহ কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে এবং কম্বলের উপরে লুঙ্গি দিয়া পেঁচিয়ে ঘরের সানসেটের উপর রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান আসামি রফিকুল। পরে জারিয়ার বাবা জাকির হোসেন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানার মামলা হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে লাশ উদ্ধারের পর আসামিকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। সোমবার সকাল আটটার দিকে আসামি রফিকুলকে যাত্রাবাড়ী থানার কাঠেরপুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামি রফিকুল।

ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতে আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আশা করি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আসামি মাদকাসক্ত। এত সুন্দর ফুটফুটে একটা শিশুকে হত্যার কথা শুনে আবেগআপ্লুত হয়ে যাই। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে পেরে স্বস্তিবোধ করছি।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / এমআরআর

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা