Sports

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সপ্তাহান্তের ছুটিতে পুরো বিশ্ব যখন ফুটবলে বুঁদ হয়ে থাকে তখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে থাকে বিরতি! এখানে শুক্রবার বাদে সপ্তাহের অন্যান্য কর্মব্যস্ত দিনে চলে ফুটবল।

ইউরোপ থেকেই ‘উইক-এন্ড’ ফুটবল কালচার শুরু।

উদ্দেশ্য ফুটবলের সঙ্গে মানুষের প্রত্যক্ষ সেতুবন্ধ তৈরি করা। যেন ছুটির দিনে মাঠে গিয়ে তারা খেলা উপভোগ করতে পারে, নিজের দলকে সমর্থন করতে পারে। বাংলাদেশেও ছিল এই ফুটবল-সংস্কৃতি, অন্যান্য দিনে হোক না হোক সপ্তাহের ছুটির দিনে অন্তত লিগের খেলা থাকত। দর্শকদের মাঠে যাওয়ার জন্যও তো এটা বড় সুযোগ। এবার হঠাৎ করে নিয়ম বদলে ফেলেছে, শুক্রবার বাদে অন্যান্য দিনে চলছে প্রিমিয়ার লিগের খেলা। এদিকে মাঠে দর্শক নেই বলে আহাজারি করে বাফুফে, আবার তারাই কিনা ছুটির দিনে বিরতি দিয়ে দর্শক আসার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে! সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী মনে করেন, ‘এটা বাফুফের স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া কিছুই নয়। তুলনামূলকভাবে শুক্রবারে কিছু দর্শক হয়। সেদিন যানজটও তেমন থাকে না। একটা লিগের পেছনে ক্লাবগুলো কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে, সেটাকে আরো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করাটাই তাদের কাজ। ’ বাফুফের পরিকল্পনাহীন পথচলায় ক্লাবগুলোর সেসব বিনিয়োগ যায় জলে। এই লিগের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই, বাফুফের খেয়ালখুশিতে চলে এবং বন্ধ হয়।

 চলমান প্রিমিয়ার লিগে এ পর্যন্ত তিনবার লম্বা ছেদ পড়েছে। লিগে একরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আকর্ষণ তৈরি হলো তো হুট করে কোনো এক ছুতায় বন্ধ করে দিল বাফুফে। তাতে যে ক্লাব-খেলোয়াড়সহ সামগ্রিক লিগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেটা তাদের বোধে আসে না। আবার দেখা গেছে, ভরা বর্ষায় খেলা চালিয়ে তামাশার জন্ম দিচ্ছে। সর্বশেষ সংযোজন হলো শুক্রবারে খেলা বন্ধ রাখা। আর এটির নামই হলো বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবল লিগ! তবে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের ব্যাখ্যায় শুক্রবারে খেলা বন্ধ থাকাটা কাকতালীয়, ‘এটা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়নি, কাকতালীয়ভাবে শুক্রবার খেলার সূচিতে বন্ধ পড়ে গেছে। একটা রাউন্ডের খেলা শেষ হলে তো দু-এক দিন বিরতি দিতে হয়। তা ছাড়া দু-তিন দিন পরে খেলা দিলে তো ক্লাবগুলোও রাজি হবে না। দুই রাউন্ডের মাঝে বিরতিটা কাকতালীয়ভাবে শুক্রবার পড়ে গেছে। ’ সম্পাদকের বিরতির হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক দলের একটি ম্যাচের পর তিন-চার দিন বিরতি দিয়েও শুক্রবারে খেলা রাখা যায়। বাফুফের একটা সূত্র বলছে, বাফুফে নির্বাহীদের সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতেই শুক্রবার লিগের ম্যাচ রাখা হয় না। ছুটির দিনে খেলা হলে তাঁদের মাঠে থাকাটা বাড়তি হ্যাপা। সে ক্ষেত্রে তাঁরা অন্য দিন সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করলেই হয়ে যায়।

সেটা না করে ফুটবলের দিনেই ছুটি দিচ্ছে ফুটবলকে! এ দেশের ফুটবল এমন উল্টোরথে চেপেছে, বিশ্ব ফুটবল-কালচারকেও দু-পায়ে মাড়িয়ে তছনছ করে দিচ্ছে। তাই ফুটবলও বুঝি তার শোধ নিচ্ছে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা