khulna

মাহমুদ উল্লাহ বাউন্সার দিলেন। এবং সেটি এমন বাউন্সার যে উইকেটরক্ষকও বল ধরতে পারলেন না বলে উইকেটের পেছনে সীমানা দড়ি পেরিয়ে গেল!

ভুল পড়েননি, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের অনিশ্চিত চরিত্র অব্যাহত থাকায় অফস্পিনার মাহমুদ উল্লাহর বলও পেসারের ডেলিভারির মতোই লাফ দিল।

আবার একই বোলারের বল এমন নিচুও হলো যে কালই প্রথম বিপিএলে খেলতে নামা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ওপেনার সলোমন মায়ার রীতিমতো ভড়কে গেলেন, হলেন বোল্ড!

 শেষাঙ্কে এসে বিপিএলে যখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশা, তখনো উইকেট হয়ে আছে দলগুলোর মাথাব্যথার কারণ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কথায় কালও এলো উইকেটের ‘উল্টাপাল্টা’ আচরণ প্রসঙ্গ। যদিও পয়েন্ট তালিকার ১ নম্বর জায়গাটি তাঁদের নামে এরই মধ্যে খোদাই হয়ে যাওয়ায় খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে কালকের ম্যাচ থেকে তাঁদের চাওয়া-পাওয়ার ছিল না কিছুই। কুমিল্লার কাছে ম্যাচটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার হয়ে গেলেও খুলনার কাছে ছিল হিসাব মেলানোর ম্যাচ।

সেই হিসাব তারা মিলিয়েছেও। পয়েন্ট তালিকার সেরা দুইয়ে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের। শেষ দিকে ঝোড়ো ব্যাটিং এবং বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১৪ রানে কুমিল্লাকে হারিয়ে খুলনা টাইটানস এখন তাকিয়ে আজকের ঢাকা ডায়নামাইটস-রংপুর রাইডার্স ম্যাচের ফলের দিকে। কালকের জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তাঁরা এখন আছে দুইয়েই। তাই বলে দুইয়ে থাকা নিশ্চিত নয় এখনো।

কারণ আজ রংপুরের বিপক্ষে ঢাকা জিতে গেলে তাদের পয়েন্টও হবে ১৫। তখন শ্রেয়তর রানরেটে এগিয়ে থাকা ঢাকাই হবে দ্বিতীয়। অবশ্য কাল খুলনার জয়ে সেরা দুইয়ে যাওয়ার ‘ত্রিমুখী’ লড়াইটা এখন হয়ে গেছে ‘দ্বিমুখী’। কারণ কুমিল্লার হারে শেষ হয়ে গেছে রংপুরের দুইয়ে যাওয়ার আশা।

 

সেটি শেষ করে দেওয়ার পথে কাল টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া খুলনার শুরুটা হয়েছিল ঢিমেতালেই। প্রথম ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৫ রান জমা করা দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন (২১ বলে ৩৭) ও মাইকেল ক্লিঙ্গার (২৮ বলে ২৯) অবশ্য পরে তা পুষিয়ে দিয়েছেন ভালোই। পরের ৩ ওভারে তাঁদের ব্যাট থেকেই এসেছে ৪০ রান। ৫৫ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর নামা অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহও (২৩ বলে ২৩) দলকে খুব বেশি দূর এগিয়ে দিয়ে যেতে পারেননি। ঝিমিয়ে পড়া রানের গতি অবশ্য শেষ দিকে ভালোই বাড়িয়েছেন আরিফুল হক ও কার্লোস ব্রাথওয়েট। দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটি ৪৭ রানের।

৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ১২ বলে ২২ রান করে ব্রাথওয়েট আউট হয়ে গেলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ছিলেন আরিফুল। শেষ বলে বেশ খরুচে (৫২ রান) কুমিল্লার সফলতম বোলার আল-আমিন হোসেনের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ২১ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে যান ম্যাচসেরা আরিফুল। তাতে দলও পায় ১৭৪ রানের বড় পুঁজি। যে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট কুমিল্লার, নিচু হওয়া বলে বোল্ড তামিমের সঙ্গে ওপেন করতে নামা সলোমন। এরপর অবশ্য ইমরুল কায়েসকে (১৯ বলে ২০) নিয়ে ৬৩ রানের পার্টনারশিপে দলকে জয়ের পথই দেখাচ্ছিলেন তামিম (৩৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৩৬)।

কিন্তু ওই পর্যন্তই, কারণ তাঁদের কাছে বড় ইনিংসের দাবি মিটিয়ে যেতে পারেননি কেউই। জস বাটলারও (১১) তাঁর ব্যর্থতার ধারা লম্বা করে গেছেন। তবু আশা টিকে ছিল মারলন স্যামুয়েলস ও শোয়েব মালিকের ব্যাটে। বিশেষ করে মালিক করছিলেন পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী ব্যাটিং। কিন্তু খুলনার পাকিস্তানি লেগস্পিনার মোহাম্মদ ইরফানের বলে মালিক (২৩ বলে ১ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়) মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচ হতেই কুমিল্লার আশার সমাধি। স্যামুয়েলস (দুটি করে বাউন্ডারি ও ছক্কায় ১৫ বলে অপরাজিত ২৫) শেষ পর্যন্ত ছিলেন এবং এই প্রথম খেলতে নামা রকিবুল হাসানও (৯ বলে ১৭) চেষ্টা করেছেন। তবে তাঁদের ব্যাটিং হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন কেবল।

যদিও এই হারে কুমিল্লার কিছুই এসে যাচ্ছে না। তবে জয়ে দুইয়ে যাওয়ার আশার পালে হাওয়া লাগল খুলনার।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা