khaleda-zia-eid

গুলশান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ঢাকা ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আজকে দেশের অবস্থা মোটেই ভাল না। প্রতিটি মানুষ ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। দেশবাসী এ ভয়ানক অবস্থা থেকে ‍মুক্তি চায়।’   
           
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (০৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বেগম জিয়া।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ আজকে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আপনারা (সাংবাদিক) লক্ষ্য করেছেন, গুলশানের ঘটনার পর সারা ঢাকা শহর একেবারে থমথমে হয়ে গিয়েছিল। তখন রাস্তায় মানুষ, গাড়ি-ঘোড়া কিছুই দেখা যায়নি। ভুতুড়ে নগরীর মতো হয়ে গিয়েছিল ঢাকা।’

তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্ট যেখানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি কূটনীতিক এলাকা। তাছাড়া ওই রেস্টুরেন্টে বিদেশিরাই যায়। সাধারণ মানুষ সেটা না জানলেও সরকার এবং ওই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা থাকেন, তারা তো সেটা জানেন। কাজেই সে এলাকার নিরাপত্তা আরো জোরদার করা উচিত ছিল।’

বিএনপি প্রধান বলেন, ‘কেন এই ঘটনা ঘটলো? জিম্মিদের উদ্ধারে কেনই বা এতো সময় লাগলো? কেন ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো? তখন প্রতিটি মানুষের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। কিন্তু ভোরে আমরা কী দেখলাম? আমরা শুধু মৃত মানুষের লাশই দেখলাম। আমরা তো দেখি নাই, বিরাট একটা অপারেশন করে বিরাট সফলতা অর্জন করেছে। সরকারের গাফিলতি, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার জন্য এটি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো ঘটনাই আজ পর্যন্ত ঠিকমতো হ্যান্ডেল করতে পারেনি। ঢাকা শহরে যত ঘটনা ঘটেছে কোনো অপরাধীকেই তারা ধরতে পারে নাই। এমনকি নারায়ণগঞ্জের ঘটনা (সাত খুন) নিয়েও অনেক কথা শোনা যায়। কিন্তু ওই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত-বিচার হয়নি।’

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড দিয়েই সূত্রপাত এসব হত্যাকাণ্ডের। বিডিআরের ওই ঘটনা তখনই যদি শক্তভাবে দমন করা যেত, তাহলে আজকে বাংলাদেশে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পেত না।’

জঙ্গি দমনে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘জঙ্গি দমনে সাড়াশি অভিযানের নামে ১৬ হাজার লোককে ধরে জেলখানায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজারের ওপরে বিএনপির নেতাকর্মীকে ধরা হয়েছে। ঈদের সময় জেলখানায় তারা দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছেন। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি জেলখানা পরিদর্শন শেষে বলেছেন, জেলখানায় বন্দিরা অমানবেতর জীবনযাপন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই যে ঘটনাগুলো (গুপ্তহত্যা ও সন্ত্রাসী হামলা) তাতে সরকার কি সত্যিকারেই প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে পেরেছে, না কারো বিচার করেছে? আমরা তো দেখেনি। দুই-চারটা অপরাধী ধরা পড়লেও দেখা যায় তারা আওয়ামী লীগের লোক। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। আমি মনে করি, অপরাধীরা তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। কেবল তাহলেই আরো যারা আছে তারা এই অপরাধগুলো করার সাহস করবে না। কিন্তু বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত।’

গুলশান রেস্টুরেন্টে জিম্মিদের উদ্ধারে বিলম্বে অভিযান পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য। পুলিশ চাঁদাবাজি ও গ্রেপ্তার বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। পুলিশ বাহিনী সাধারণ মানুষকে সত্যিকারের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন কেন পুলিশ এটা (গুলশান হামলা) দমন করতে পারল না? পুলিশ তো পারেনি, কিন্তু কেন পারেনি? র‌্যাব ছিল, অথচ কেউ কিছু করতে পারে নাই। শেষে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান পরিচালনা করা হলো। কিন্তু অভিযান পরিচালনার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে, সব ঘটনা ঘটে গেছে। অভিযান পরিচালনায় এতো দেরি কেন? এতো দেরিতে কেন সে কাজটি করা হলো? এটি আজ মানুষের প্রশ্ন।’

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সরকারের প্রতি কোনো আহ্বান আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে ঈদের দিনে আমার আহ্বান থাকবে, আমরা দেশে এসব ঘটনা দেখতে চাই না। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রিয়। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। তারা ন্যায়বিচার চায়, বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। অথচ এগুলোকে আজ কেড়ে নেয়া হয়েছে, সেজন্য আজ দেশের এই অবস্থা।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘সুশাসন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের অভাবে আজকে দেশে সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। এটা দমন করা অত্যন্ত জরুরি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশে অবিলম্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার। কারণ, দেশে যদি সত্যিকারের গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না থাকে, তাহলে কোনদিনই শান্তি আসতে পারে না, সুন্দরভাবে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না।’

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টর জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়; চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন-অর রশিদ, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল,  ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, প্রথম যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রথমে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বনানী কবরস্থানে প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন খালেদা জিয়া। এরপর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরে যান তিনি।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা