uttara

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে গতকাল সোমবার উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের চারটি সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে নাগরিকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, চার বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই ৪ নম্বর সেক্টরের ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁরা বলেন, পানি সরতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। বিষয়টি ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।

উত্তরা কল্যাণ সমিতি সেক্টর-৪-এর সাধারণ সম্পাদক কায়ছারুল ইসলাম  বলেন, গতকাল বেলা দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেকের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। ওই চারটি সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে। এই পানি সরতে প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। তিনি বলেন, এই এলাকার বৃষ্টির পানি কসাইবাড়ি খাল দিয়ে সরে যেত। কিন্তু খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় ওই পথে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই চারটি সড়কের বৃষ্টির পানি সরার নালা সরু। এতে ঠিকমতো পানি সরতে পারে না।

গতকাল বিকেলে দেখা যায়, ৪ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের একাংশে হাঁটু পরিমাণ ময়লা পানি জমে আছে। এর মধ্যে উত্তরা কল্যাণ সমিতির পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পানির পরিমাণ বেশি। সড়কের দুপাশের ফুটপাতও পানিতে তলিয়ে আছে। এর মধ্যে পথচারীরা ফুটপাতে ভিজে চলাচল করছে। সড়কে ব্যক্তিগত যান, পিকআপ ও রিকশা চলাচল করছে। দ্রুতগতিতে কোনো গাড়ি গেলেই ঢেউয়ের পানি পথচারীদের ওপর গিয়ে পড়ছে। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।স্থানীয় লোকজন বলেন, ১, ২ ও ৩ নম্বর সড়ক এবং গলিগুলোতে একই পরিমাণ পানি জমেছে।


স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, উত্তরার এই এলাকা পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। সড়কগুলো ভালো। কিন্তু ৪ নম্বর সেক্টরে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তায় বেশি পানি জমলে রিকশাচালকেরাও যেতে চান না। গেলেও ভাড়া রাখেন দ্বিগুণ। ৫ নম্বর সড়কের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান তাঁর মুঠোফোনে ৪ নম্বর সেক্টরের গত বছরের জলাবদ্ধতার ছবি দেখিয়ে বলেন, জলাবদ্ধতা নতুন কিছু নয়। এই এলাকায় কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতা লেগে আছে।


ডিএনসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান বলেন, উত্তরার অন্যান্য এলাকার চেয়ে ৪ নম্বর সেক্টর কিছুটা নিচু। এ কারণে বৃষ্টি হলে অন্য এলাকার পানি এই এলাকার দিকে নেমে আসে। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

সুত্র: প্রথম আলো



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা