Ma

স্তন্যদুগ্ধ পান করানো নিয়ে এক এক মায়ের এক এক ধরনের মতামত রয়েছে। প্রত্যেক সন্তানের কাছেই মাতৃদুগ্ধ নিয়ে বিশেষ সংবেদনশীলতা রয়েছে। ভারতের চেন্নাইয়ে প্রীতি বিজয় নামে এক শিল্পী মায়ের দুধ নিয়ে সেই ভাবাবেগকে একটি নতুন রূপ দিতে শুরু করেছেন। স্তন্যদানের অভিজ্ঞতাকে অমর করে রাখতে অনেক মায়ের যে উৎসাহ রয়েছে, তাকে আকার দিচ্ছেন তিনি।

৩০ বছর বয়সি এই শিল্পী মায়ের দুধ দিয়ে কানের দুল, আংটি, লকেটের মতো গয়না তৈরি করছেন। এমনকী, ঘরে সাজিয়ে রাখার মতো জিনিসও বানাচ্ছেন তিনি মাতৃদুগ্ধ দিয়ে।

প্রীতি নিজেও ছয় বছরের এক সন্তানের মা। একটি ফেসবুক ফোরামে স্তন্যদুগ্ধ নিয়ে গয়নার ব্যাপারে কথাবার্তা চলতে চলতে প্রীতির মাথায় স্তন্যদুগ্ধ দিয়ে গয়না বানানোর ভাবনা আসে। প্রীতি দক্ষিণ ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি আগে পলিমার ও মাটির গয়না বানাতাম। মনে হল নতুন এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে কেমন হয়।

ইন্টারনেট থেকেই এই ধরনের গয়না বানানোর প্রশিক্ষণ নেন প্রীতি।

তবে সে পথ কঠিন ছিল। প্রায় ছ’মাস ধরে মায়ের দুধের গয়না তৈরির চেষ্টা করে অবশেষে সফল হন তিনি। এই বছরের মে মাস থেকে অর্ডার নেওয়া শুরু করেন তিনি। ক্রেতারা প্রীতিকে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। কীভাবে বুকের দুধ পাঠাতে হবে, তা বলে দেন তিনি। ঠিক অবস্থায় রাখলে মানুষের দুধ তাড়াতাড়ি খারাপ হয় না বলেই প্রীতির দাবি।

 

যদিও অনেক দিন হয়ে গেলে তা শিশুকে খাওয়ানো যায় না, কিন্তু সেই দুধ থেকে গয়না বানানোতে কোনও অসুবিধা হয় না। প্রীতির কাছে পৌঁছালে সেই দুধে প্রিজারভেটিভ মিশিয়ে ফ্রিজারে রেখে দেন তিনি। ওই অবস্থায় দুধ প্রায় ছ’মাস রেখে দেওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।  

ধীরে ধীরে মাতৃদুগ্ধের গয়নার চাহিদা বাড়ছে। সপ্তাহে প্রায় ১২টি অর্ডার পেলেও, এই শিল্পী চার থেকে পাঁচটি গয়না বানাতে পারেন। ডিজাইন ও কী ধরনের ধাতু ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর গয়নাটির দাম নির্ভর করে। ১০০০ থেকে ৪০০০ টাকার মতো দাম এই গয়নার।

শুধুই মাতৃদুগ্ধ নয়, প্রীতি মাঝে মাঝেই সন্তানের প্রথম দাঁত বা চুল, এমন কী জন্ম নাড়ি দিয়েও গয়না বা ঘর সাজানোর জিনিসের অর্ডার পান। প্রীতির কথায়, আসলে স্তন্যদান একটি অপূর্ব অভিজ্ঞতা এবং এটি মা ও সন্তানের মধ্যে একটি অদ্ভুত বন্ধন তৈরি করে। অনেকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দেওয়ার জন্যই এই গয়না তৈরি করান।

তবে প্রীতি দুঃখ তিনি নিজের স্মৃতির জন্য কিছুই বানাতে পারেননি। কারণ তিনি এই গয়না বানানোর কায়দা আয়ত্ত করেন তাঁর সন্তান বড় হয়ে যাওয়ার পরে।  



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা